‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’, বাড়িতে চিড়িয়াখানা গড়ে তোলা তৃণমূল বিধায়ককে ভর্ৎসনা আইনজীবীর
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
রিসর্টের মতো বিলাসবহুল বাড়ি, আস্ত একটা চিড়িয়াখানা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের সম্পত্তি দেখে চোখ কপালে উঠেছিল পুলিশের। তোলাবাজি, হুমকির মামলায় তাঁর নামে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি হতেই পালিয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ পুরীর হোটেল থেকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় এনে বৃহস্পতিবার দিলীপ মণ্ডলকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। ৭ জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তবে এদিন আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় বিধায়ককে ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলে আক্রমণ করেন সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল। সেই ২০১৪ সাল থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সত্ত্বেও স্রেফ দাপট দেখিয়ে তিনি গ্রেপ্তারি এড়িয়েছেন বলে অভিযোগ।
বুধবার সকালে পুরীর বিলাসবহু হোটেল থেকে দিলীপ মণ্ডল ধরা পড়ার পর বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর থানায় নিয়ে আসা হয় তাঁকে। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের পাঁচবারের বিধায়ক। পুরীর একটি বিলাসবহুল হোটেল থেকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স মঙ্গলবার তাঁকে পাকড়াও করে। উল্লেখ্য, ভোটে জিতে গত ১১ মে বিজয়মিছিলে তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের প্রকাশ্যে হুমকি ও এলাকায় উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ ওঠে। গত ১৪ মে পৈলানে বিধায়কের প্রাসাদোপম দু’টি বাড়িতে পুলিশ হানা দিলেও পালিয়ে যান তৃণমূল বিধায়ক। তারপর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি।
এদিকে বিভিন্ন সময়ে বিধায়কের বিরুদ্ধে জোর করে জমিদখল, জমি কেলেঙ্কারি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, এলাকায় অশান্তি সৃষ্টিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলায় বিষ্ণুপুরের সারদা গার্ডেনের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অধীনে থাকা সত্বেও সেই সারদা গার্ডেন থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার মাটি অবৈধভাবে কেটে বিক্রি, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের পর বিষ্ণুপুরের কুলেরদাঁড়ি, আমগাছিয়া, পানাকুয়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া বিজেপি কর্মীদেরও চমকানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কখনও অর্জুন সিং, কখনও তাপস রায়ের নাম করে দিলীপ মণ্ডল নাকি বলতেন, ‘‘তোদের নেতা অর্জুন সিং, তাপস রায়দের জিজ্ঞেস কর দিলীপ মণ্ডল কে।” সেসব নিয়েও কম বিতর্ক হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় ১১টি মামলা রয়েছে। এদিন অভিযুক্ত বিধায়ককে আলিপুর আদালতে তোলা হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে দশদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়।