পুরসভার পর মুখপাত্র হিসেবেও ইস্তফা তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপের, দলের হয়ে সওয়াল করে ক্লান্ত?
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
ছাব্বিশের নির্বাচনে হারের পর একের পর এক তৃণমূল নেতানেত্রী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। পদ ও দায়িত্বও ছাড়ছেন অনেকে। বুধবার পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। এবার দলীয় মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। আজ তৃণমূল কংগ্রেসে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইমেল মারফত ইস্তফাপত্র পাঠান তিনি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি এই পদ ছাড়ছেন বলে ইমেলে উল্লেখ করেন অরূপ।
গতকালই দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে পুরসভার পদ ছেড়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ ও অরূপ চক্রবর্তী। সুশান্ত বরো চেয়ারম্যানের পদ ও অরূপ পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে একসঙ্গে ইস্তফা দেন। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও একাধিক উচ্চস্থানীয় নেতাদের নিশানা করেন তাঁরা। বলেন, “হার স্বীকার তো করতেই হবে। ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে পেরিয়ে গেলেও কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাঁদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না।” সরাসরি অরূপ প্রশ্ন করেন, হারের পর কোথায় গেলেন এক্স-ওয়াই ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পাওয়া দলের সব হেভিওয়েটরা? তারপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁরা বিজেপিকে ধন্যবাদও জানান। এই আবহে আজই দলের মুখপাত্র পদ থেকে অব্যাহতি চাইলেন অরূপ। তিনি জানান, অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের হয়ে কথা বলেছেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই কোনও শক্তিশালী যুক্তি না থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। কিন্তু নির্বাচনে হারের পর কি আর কোনও যুক্তিই কাজে লাগছে না? দলের হয়ে সওয়াল করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি? ইস্তফার পর এই প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে।
রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতৃত্ব দলের পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। দলীয় বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আজ সকালেই দলের জাতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা ডাঃ শান্তনু সেন। এছাড়াও রাজ্যজুড়ে একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে কাউন্সলির ও পুরপ্রধানরা গণ ইস্তফা দিচ্ছেন।