অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন ফর্ম পূরণ সময়সাপেক্ষ-জটিল, এটা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা: কুণাল
eTV Bharat | ২৮ মে ২০২৬
কলকাতা, 28 মে: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণের 'জটিল' প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বেলেঘাটার বিধায়ক তথা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ৷ বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, বাংলার মা-বোনদের আর্থিক, রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক পদক্ষেপ করেছেন ৷ সেগুলির মধ্যে অন্যতম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ৷ সেই সময় বিজেপি এবং বিরোধীরা এই প্রকল্পকে ভিক্ষা বলে কটাক্ষ করেছিল ৷ পরবর্তীতে বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলিতেও এই ধরনের প্রকল্প চালু করা হয় ৷ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে মা-বোনরা নিজেদের খরচ চালানোর অধিকার সরকারের কাছ থেকে পেতেন ৷ সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল ৷
কুণাল বলেন, "ভোটের আগে বিজেপি এই প্রকল্পে তিন হাজার টাকা করে দেবে বলে ঘোষণা করে ৷ তারা একটি ফর্ম বিলি করছিল ৷ এক পাতার সেই ফর্ম অনেককে দিয়ে তারা পূরণও করিয়েছে ৷ কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বেরোনোর পর দেখা যায়, 12 পাতার এই ফর্মটি পুরোপুরি আলাদা ৷ এই ফর্ম এক কথায় মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ৷ যাঁরা আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ করেছিলেন, এখন তাঁদের সেই ফর্মের কোনও দামই থাকল না ৷ নতুন এই ফর্ম পূরণ করা একদিকে যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই জটিল ৷"
কুণালের দাবি, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তিন হাজার করা হবে ৷ কিন্তু এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য নতুন ফর্ম দেওয়া হয়েছে ৷ এই ফর্ম পূরণ করা গরিব মানুষের পক্ষে দুরূহ ৷ মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্ত ঘরের মা-বোনরাও এই ফর্ম পূরণ করতে সমস্যায় পড়বেন ৷ 1 জুন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়ার কথা আছে ৷ কিন্তু মে মাসের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কোথায় গেল ? তাঁর দাবি, যে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের প্রত্যেককে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিতে হবে ৷ যদি কোনও পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে থাকতেন, শুধু তাঁর নাম এখন বাদ দিলেই চলবে ৷ কিন্তু বিরাট সংখ্যক মানুষের নামই এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে ৷ তাছাড়া একজন মহিলার পক্ষে গোটা পরিবারের বিস্তৃত তথ্য ফর্মে লেখা কতটা সম্ভব ?
এতদিন আশাকর্মীরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন ৷ নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত নির্দেশিকার জেরে তাঁরা এবার সেই টাকা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ৷ এনিয়েই এদিন সরব হন কুণাল ৷ তিনি বলেন, "আশাকর্মীদের সাম্মানিক এমনিতেই কম ৷ এতদিন তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন ৷ সেই টাকা তাঁদের সংসার চালানোর কাজে লাগত ৷ কিন্তু এখন তাঁরা সেই টাকা পাবেন না ৷ এমন অনেক স্লট রয়েছে, যাঁরা সরকারের ডালপালায় থাকলেও খুব সামান্য টাকা মাইনে পান ৷ তাই শুধুমাত্র ক্রাইটেরিয়া করে কারও নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বাদ দেওয়া যাবে না ৷"
অন্যদিকে, ভোটে বিপর্যয়ের পর যেন তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়েছে ৷ প্রতিদিনই কোনও না কোনও নেতা দল ছাড়ছেন ৷ অনেকেই ইতিমধ্যে দলে থেকে বিদ্রোহী হয়েছেন ৷ এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল বলেন, "এটা দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার ৷ কর্মীদের আবেগ, বক্তব্য নিয়ে নিশ্চিতভাবেই দলে আলোচনা হবে ৷ আজ তৃণমূল যদি সরকার গড়ত তবে কি এই কথাগুলি শোনা যেত ? কাকলিদি দলের অনেক পুরনো নেত্রী ৷ এটা ঠিক, এক দল করলেও সবার সঙ্গে সবার মত মেলে না ৷ এটাই স্বাভাবিক ৷ এটা সব দলেই থাকে ৷ কিন্তু এই সময় এসব এভাবে সামনে আনা ঠিক নয় ৷ নির্বাচনে এদিক ওদিক হতে পারে ৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কী প্রমাণ করার আছে ? তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকলে শান্তনু সেনের মতো লোক দল ছাড়ার কথা ভাবত না ৷"