• ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম, প্রতি সপ্তাহে প্রায় 1800 ফ্লাইট কমতে চলেছে দেশজুড়ে
    eTV Bharat | ২৮ মে ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, 28 মে: এখনও পর্যন্ত পেট্রোল পাম্পে বাইক ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন এবং জ্বালানির ঘাটতি শুধুমাত্র সড়কপথে ভ্রমণকারীদেরই ভোগাচ্ছিল। এখন আকাশপথে ভ্রমণকারীরাও একই কারণে প্রভাবিত হবেন। দেশের প্রধান বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ফ্লাইটের সংখ্যা কেন কমছে?

    এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট কমানোর প্রধান কারণ হিসেবে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর ক্রমবর্ধমান মূল্যকে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে, ইন্ডিগো এই হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কম চাহিদাকে উল্লেখ করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট 22 শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে, যার ফলে অনেক রুটে যাত্রী চলাচল কমে গিয়েছে।

    কোন কোন রুট প্রভাবিত হবে?

    দেশের দুটি ব্যস্ততম বিমানবন্দর, দিল্লি ও মুম্বইতে ফ্লাইট হ্রাসের প্রভাব সবচেয়ে তীব্র হবে। যাত্রীদের জন্য একমাত্র স্বস্তির বিষয় হল, কোনও রুটেই ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না, বরং ফ্লাইটের সংখ্যা ও চলাচল কমানো হচ্ছে।

    উল্লেখ্য যে, দিল্লি থেকে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং কলকাতাগামী ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হবে। আর্থিক রাজধানী মুম্বই বিমানবন্দর থেকে আহমেদাবাদ, নাগপুর, পাটনা এবং ভোপালগামী ফ্লাইটও কমানো হবে। দক্ষিণ ভারতের শহরগুলি থেকে ফিরতি ফ্লাইটগুলিও প্রভাবিত হবে।

    এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ অজয় ​​জাসরা ইটিভি ভারতকে বলেন, "বর্তমান বিমান চলাচল মন্দা শুধু চাহিদার কারণেই নয়, এটি একটি ভূ-রাজনৈতিক জ্বালানি ও আকাশপথ সঙ্কট যা বিমান সংস্থাগুলির অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে। বিমান সংস্থাগুলি এখন সম্প্রসারণের চেয়ে টিকে থাকা ও লাভজনক হয়ে ওঠাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্তরের সংযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।"

    তিনি আরও বলেন, "নাগপুর-বেঙ্গালুরু, নাগপুর-কলকাতা, ইন্দোর-আমেদাবাদ, সুরাত-হায়দরাবাদ এবং ভাইজাগ-পুনের মতো রুটগুলি অত্যন্ত স্বল্প মুনাফায় পরিচালিত হয় এবং এগুলিতে শক্তিশালী 'প্রিমিয়াম ট্রাফিক' বা উচ্চবিত্ত যাত্রীর আনাগোনা কম। ইরানের সংঘাত এবং আকাশসীমায় বিঘ্নের কারণে জ্বালানির খরচ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়, বিমান সংস্থাগুলি এখন তাদের দুর্বল বা কম লাভজনক দ্বিতীয় সারির রুটগুলি ছাঁটাই করতে শুরু করেছে।"

    যারা ইতিমধ্যেই টিকিট বুক করেছেন তাদের কী হবে?

    সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, বিমান সংস্থাগুলির এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কী হবে? উল্লেখ্য যে, বিমান সংস্থাগুলি এর জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিল। এয়ার ইন্ডিয়ার মতে, যেসব যাত্রীর ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের অন্য ফ্লাইটে আসনের ব্যবস্থা, বিনামূল্যে ফ্লাইটের সময় পরিবর্তনের সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

    জানা গিয়েছে, 1 জুন থেকে 31 অগস্টের মধ্যে বাতিল বা সীমিত করা ফ্লাইটগুলি বিমান সংস্থাগুলির আনুষ্ঠানিক বুকিং ওয়েবসাইট এবং ট্র্যাভেল পোর্টাল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যাত্রীরা ওই বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলিতে আর টিকিট ফের বুক করতে পারবেন না।

    বিমানের টিকিটের দাম কি বাড়বে?

    বিমান সংস্থাগুলি ফ্লাইট বাতিলের কারণ হিসেবে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) ক্রমবর্ধমান মূল্যকে উল্লেখ করেছে। ফ্লাইট কমে যাওয়ায় আসন সংখ্যা কমবে এবং চাহিদা বাড়বে, ফলে দাম বাড়বেই। বিমান সংস্থাগুলি ইতোমধ্যে যাত্রীদের ওপর 400-450 টাকার ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করেছে। অনেক রুটে ভাড়া 40-50 শতাংশ বেড়েছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে জ্বালানির দাম না কমলে বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের দাম আরও বাড়াবে।
  • Link to this news (eTV Bharat)