ইকোপার্ক (নিউটাউন), 28 মে: ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়লে মহিলাদের প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল৷ সেই প্রতিশ্রুতি মতো অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম বুধবার প্রকাশ্যে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ কিন্তু সেই 12 পাতার ফর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ যদিও শুভেন্দুর সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মনে করছেন ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷
বৃহস্পতিবার সকালে ইকোপার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ৷ সেখানেই তিনি একাধিক প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দেন৷ তার মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার বিষয়টিও রয়েছে৷
দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘সবই সরলীকরণ হবে৷ শুরু করেছে একটা কিছু ভেবে৷ ওই রকম নয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে হল, যাকে ইচ্ছা দিয়ে দিল৷ মা মেয়েকে জা দেখিয়ে সেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েছে৷ বাংলাদেশিরা অর্ধেক নিয়ে চলে গেল, এটা চলবে না৷ ভেরিফিকেশন চলছে৷ দিতে হবে৷ সরলীকরণ হবে৷ জিএসটি যখন চালু হল, তখন কেউ বুঝতে পারছিল না৷ আজ জিএসটি নিয়ে সবাই খুশি৷ তার জন্য একটু সময় লেগেছে৷’’
এদিকে একের পর এক নেতা থেকে বোরো চেয়ারম্যান-তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছেন বা দল ছাড়ছেন। আর সেই নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'গিরগিটি' নামে একটি কবিতা লিখলেন। সেই প্রসঙ্গে বঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, "আমি আগেই বলেছিলাম যে এখন সুযোগ এসেছে বাড়িতে বসে কবিতা লেখার। সেই সময় এসেছে, সেই সময়টা কাজে লাগান। বাড়িতে বসুন আর তার প্রতিভায় একটু শান দিন। আরও ইস্যু পাবেন কবিতা লেখার। দলটাই উঠে যাবে আর ক’দিন পরে। দলটার আর আছেটা কী?"
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, তৃণমূলের অনেক নেতাই বিজেপিতে আসতে চান৷ ভোটের ফল বের হওয়ার পরপরই বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন যে বিজেপিতে যোগদানের দরজা এখন বন্ধ৷ যদিও পরে তিনি জানান যে ভালো তৃণমূলীদের বিজেপিতে নেওয়ার ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে৷
এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘উনি এই কথা নিশ্চয়ই কোনও পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন। কেন বলেছেন, সেটা ওঁরাই বলতে পারবেন। এই বার্তা নিঃসন্দেহে ভালো। বহু জায়গা রয়েছে যেখানে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা বহু বছর নিঃশব্দে প্রচারের আড়ালে থেকে কাজ করে গিয়েছেন। সেইসব জায়গায় বিজেপির লোক দেখা যেত না, সেখানে তৃণমূলের হার্মাদদের দাপট বেশি ছিল। তাদের বিজেপিতে নিতে থাকলে তো একই জিনিস হবে। তাই ঘোলা জল একটু থিতিয়ে গেলে তারপর এই নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়।’’
অন্যদিকে এদিন বকরি ঈদ৷ এদিন অন্যান্য বছরের মতো রেড রোডে নামাজ পড়া হয়নি৷ নামাজ পড়া হয় ব্রিগেডে৷ তাছাড়া অন্যান্য বছর ঈদের কারণে পুলিশের তরফে ট্রাফিক ডাইভারশনের যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়, সেটাও এবার দেওয়া হয়নি৷ এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের দেশে সারা বছর কোনও না কোনও উৎসব চলে। তাতে যদি রাস্তা বন্ধ থাকে বা সাধারণ মানুষের সমস্যা হয়, তাহলে তো জনজীবন আটকে যাবে। এভাবে উন্নয়নও আটকে যাবে। তাই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সমস্যায় ফেলা কোনও কাজের কথা নয়। আর সরকার সেই ব্যবস্থা করছে।’’
এছাড়া বাদুড়িয়ার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর লুকিয়ে রাখা টাকা খেতের একটি জায়গায় থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয়। সেই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘আসলে এত টাকা রাখার জায়গা নেই। সবাই তো আর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ফ্ল্যাট কিনে টাকা রাখতে পারেননি। আসলে এদের কাছে এত টাকা এসেছে যে সেই টাকা লুকিয়ে রাখার জায়গা নেই। মানুষ সব দেখছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।’’