পেট্রাপোলের কাছেই হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার, কী ভাবে কাজ করবে, কী বললেন অশোক কীর্তনিয়া?
News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
সীমান্তে বাড়ছে ভিড়, পেট্রাপোলের কাছে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ভাবনা প্রশাসনের। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এবার ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির উদ্যোগ ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সূত্রের খবর, পেট্রাপোল সীমান্ত সংলগ্ন পিরোজপুর এলাকার একটি সরকারি আবাসনকে সম্ভাব্য হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তা চলছে।
পাশাপাশি জয়ন্তীপুর এলাকাতেও উপযুক্ত জায়গা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন পিরোজপুর এলাকার এটি সরকারি আবাসনে পরিদর্শনে যান পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ঘুরে দেখেন ওই আবাসন। বিষয়টি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, “কোনও অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতবর্ষে থাকতে পারবে না। তাদের জেলে ভরা হবে না, কারণ জেলে রাখলে দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় তাদের খাওয়া-চিকিৎসার দায় নিতে হবে। তাই ধরা পড়লে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে এবং পরে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।”
আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান যোজনার ‘Card’ এবার হাতে হাতে…! কী কী তথ্য লাগবে? সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে জেনে নিন
তবে কোথায় কোথায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি হবে সে বিষয়ে এখনই বিশদে বলতে চাননি তিনি।প্রশাসন সূত্রে খবর, পেট্রাপোল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করেই এই পরিকল্পনা। কারণ এই সীমান্ত দিয়েই প্রতিদিন বহু মানুষ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও এই রুটেই চলাচল করে। ফলে সীমান্তের কাছাকাছি কোনও জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করলে প্রশাসনিক কাজকর্ম সহজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ধাপ্পাবাজ নাকি রোম্যান্টিক? মিথ্যেবাদী নাকি সৎ…? আপনার হাতের বুড়ো আঙুল বলে দেবে আপনি কেমন মানুষ! জেনে নিন ব্যক্তিত্বের ‘গোপন’ কথা
অন্যদিকে, স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যাওয়া এবং বিএসএফের ছাড়পত্র না মেলায় প্রায় শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্ত পেরিয়ে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। পরে তাঁদের স্বরূপনগরের তেতুলিয়া এলাকার একটি সরকারি গেস্ট হাউসে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই দলে দলে মানুষ সীমান্ত এলাকায় এসে জড়ো হচ্ছেন। তাঁদের অধিকাংশেরই লক্ষ্য, কোনও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার আগেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম ভরতে লাগবে কী কী…? অনলাইন ও অফলাইন আবেদনের জন্য ‘প্রসেস’ জানুন
সীমান্তে অপেক্ষারতদের মধ্যে বহু মহিলা ও পুরুষ রয়েছেন, সঙ্গে রয়েছে বাচ্চাও। কেউ কলকাতার রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস এলাকা থেকে এসেছেন, কেউ আবার উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছেন। অনেকেই জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতে শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি বা পরিচারিকার কাজ করতেন।
হাকিমপুর সীমান্তে উপস্থিত মশিয়র আলি নামে এক বাংলাদেশি যুবক বলেন, “বহু বছর ধরে এখানে কাজ করছি। কোনওদিন সমস্যা হয়নি। এখন শুনছি পুলিশ ধরলে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাবে। তাই নিজের দেশে ফিরে যাওয়াই ভাল।” সীমান্তে জড়ো হওয়া বহু মানুষই স্বীকার করেছেন, মূলত জীবিকার সন্ধানেই তাঁরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। দীর্ঘদিন এদেশে থাকার পর সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরে তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারও কারও কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ডও রয়েছে বলে দাবি উঠেছে।
এমনকি অতীতে ভারতে ভোট দেওয়ার কথাও কেউ কেউ স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরেই সীমান্তে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পেট্রাপোল সীমান্তে এখন কত দিনে এই হোল্ডিং সেন্টার কাজ শুরু করে সেদিকেও নজর। এই হোল্ডিং সেন্টার গুলিতে কী ধরনের পরিষেবা থাকবে তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা।