সরকার গঠন করার পরেই বাংলাদেশ সীমান্তে ৬০০ হেক্টর জমি BSF-কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কোনও রকম আপস করা হবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এরই পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমি ভারত সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্র সরকার ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে তা আগেই জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার, গান্ধীনগরের সভা থেকেত পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের বিষয়ে ফের কড়া বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য কেন্দ্র প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিধানসভা নির্বাচনের সময়েই প্রচারে এসে অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানো এবং বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। এ দিন গান্ধীনগরের সভায় ওই প্রতিশ্রুতি এবং তা পালন করার কথাও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য ক্ষমতায় থাকার সময় প্রতি দিন পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে BJP সরকার গঠন করার পরেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার পরে সীমান্ত এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কড়া নজরদারি ও বলপ্রয়োগের কারণে অনেকেই এখন স্বেচ্ছায় ফিরে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। যে ভাবে রাজ্য অনুপ্রবেশ মোকাবিলায় পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে তারও প্রশংসা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় চলে যেতে চাইবেন তাদের সাহায্য করবে প্রশাসন বলেও জানিয়েছন তিনি।
সারা দেশ থেকেই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বহিষ্কার করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃঢ় সংকল্প রয়েছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই নিয়ে অভিযান শুরুর আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় চলে যাবেন বলেও আশা তাঁর।