• অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম হবে আরও সরল, আশ্বাস অগ্নিমিত্রার
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • এই সময়: আরও সরল করা হতে পারে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপূরণের প্রক্রিয়া। রাজ্যের নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যাঁদের জন্য এই প্রকল্প, তাঁরা চাইলে সরলীকরণ হবে। এই বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন। ফর্ম আর একটু সরল হলে প্রান্তিক শ্রেণির উপভোক্তারা উপকৃত হবেন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    অন্নপূর্ণা যোজনা ছিল বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সরকার গঠনের পরে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অনুমোদন পায় এই প্রকল্প। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র উপভোক্তাদের ভাতার অঙ্ক দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকার সেই মতো অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করেছে বুধবার। সেই ফর্ম প্রিন্ট করার জন্য সাইবার ক্যাফেতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। অনেকে আবার ফর্ম পেতে ভিড় করছেন স্থানীয় সরকারি অফিসে। তবে এ সব ছাপিয়ে এখন একটাই আলোচনা, এত নথি কী ভাবে জোগাড় হবে? ১১ পৃষ্ঠার ফর্মে চাওয়া হয়েছে বিস্তর তথ্য। সেই ফর্ম কী ভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়েও অনেকে চিন্তায়।

    ফর্ম পূরণ নিয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এ দিন বলেন, ‘সবই সরলীকরণ হবে। তবে যাকে ইচ্ছে দিয়ে দিল, বাংলাদেশিরা নিয়ে গেল, এমনটা হবে না। আগে জিএসটি নিয়ে জটিলতা ছিল। এখন ভালো হয়েছে। একটা বড় কাজ, তাতে যদি কিছু তথ্য চাওয়া হয় দিতে হবে। অসুবিধা কোথায়?’ অগ্নিমিত্রার কথায়, ‘বাংলার মা-বোনেদের যদি অসুবিধা হয়, তাঁরা যদি চান, তা হলে ফর্মের সরলীকরণ হবে। এই প্রকল্প তো আসলে তাঁদের জন্যই। এই বিষয়টি নিয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত আয়করের বিষয়টা আমরা দেখছি। আর বাকি ডেটাগুলি আমরা দেখে নিতে চাইছি ভবিষ্যতের জন্য। আমি মা-বোনেদের অনুরোধ করব, আপনারা অসত্য কথা লিখবেন না। তা হলে আপনারা চিহ্নিত হয়ে যেতে পারেন। কারণ, এই তথ্যের উপরেই যাচাই প্রক্রিয়া চলবে। গরিব মা–বোনেরা টাকা পান, সেটা আমরা চাইছি। যিনি আবেদন করছেন, তার ক্ষেত্রটাই আমরা যাচাই করব।’

    অন্নপূর্ণা যোজনার ১১ পাতার ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। সেগুলি যাচাই করে সরকারি কর্মীরা উপভোক্তাকে যোগ্য মনে করলে তবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে। এই ফর্ম অফলাইনে বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা, ওয়ার্ড অফিস থেকে পাওয়া যাবে। পুরসভার কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পৌঁছে দেবেন। ফর্ম ফিলআপ করে কাছাকাছি সরকারি অফিসে জমা দেওয়া যাবে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনলাইন এবং অফলাইন মাধ্যমে ফর্মটি পূরণ করা যাবে। যাঁরা নিজেরা তা করতে পারবেন না, তাঁদের সহায়তার জন্য সরকারি আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরবেন। এমনকী, বিধায়কদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের মাধ্যমেই নাগরিকদের পরিবার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরকার সংগ্রহ করছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, সেই কারণে ফর্মটি দীর্ঘ হয়েছে।

    নবান্ন সূত্রের খবর, জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে সহায়তা শিবির করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সফল ভাবে পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যেই গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও বিস্তারিত সরকারি গাইডলাইন জারি হয়নি, তবুও প্রতিটি ব্লকের বিডিও-দের নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে সুষ্ঠু ভাবে পরিষেবা প্রদান করা, যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়। সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে আবেদন সংগ্রহ ও পরিষেবা বণ্টনের ব্যবস্থা করার উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)