• ৪০ বছর আগে চাঁদা তুলে ক্যানসার সেন্টার করছিলেন, এবার কোচবিহারে সংস্কারে হাজির মিঠুন
    আজ তক | ২৯ মে ২০২৬
  • Medical College Hospital Coochbehar: আশির দশকের শেষভাগের সেই স্মৃতি আজও কোচবিহারবাসীর মনে অমলিন। তখন বাসে চেপে উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন জনপদে এসে রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টার তৈরির জন্য নিজের উদ্যোগে চাঁদা সংগ্রহ করেছিলেন রুপোলী পর্দার জনপ্রিয় নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী। সময়ের নিয়মে সেই ক্যানসার সেন্টারের পরিকাঠামোয় আজ বেহাল দশা। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই দুরবস্থা দেখেই কোচবিহারের মানুষকে এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ‘মহাগুরু’। বৃহস্পতিবার সেই দেওয়া কথা রাখতেই উত্তরবঙ্গে পা রাখলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। স্বভাবতই, মহাগুরুর এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    কোচবিহারে পৌঁছেই এদিন অ্যাকশন মোডে দেখা যায় প্রবীণ এই অভিনেতাকে। প্রথমে কোচবিহার সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন মিঠুন। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কোচবিহারের জেলাশাসক জিতীন যাদব, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) হিমাদ্রীকুমার আরি এবং বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন। বৈঠক শেষ করেই তিনি সোজা চলে যান মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ (MJN) মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। হাসপাতাল চত্বর ঘুরে দেখার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং সহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এরপর সেখান থেকে তিনি যান সেই রিজিওনাল ক্যানসার সেন্টারে, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর আশির দশকের আবেগ। সেখানে গিয়ে সেন্টারের বর্তমান পরিকাঠামো ও চিকিৎসা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি।

    সমগ্র কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি কোচবিহারের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, রাজ্যে (বিজেপি) ক্ষমতায় আসলে এই ক্যানসার সেন্টারটির পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে আমার প্রথম কাজ। ক্ষমতার অলিন্দে না থাকলেও সেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতেই আজ পুলিশ ও প্রশাসনের সমস্ত অনুমতি নিয়ে আমি এখানে এসেছি। এখানকার চিকিৎসা পরিষেবা বর্তমানে মোটামুটি চলনসই রয়েছে। তবে পরিকাঠামো আরও অনেক উন্নত করতে হবে। ক্যানসার রোগীদের স্বার্থে আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু আধুনিক চিকিৎসার জিনিসপত্র এখানে দিচ্ছি। আর বাকি যে সমস্ত বড় পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তার একটি বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করে আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দেবো।’ এমজেএন মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন প্রসঙ্গে মিঠুন আরও যোগ করেন, ‘এখানকার জেনারেল বেডের সাধারণ ঘরগুলিকে যাতে আগামী দিনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (AC) করা যায়, সেই বিষয়ে আমি নিজে উদ্যোগ নিচ্ছি।’

    প্রশাসনের সবুজ সংকেত নিয়ে মিঠুন চক্রবর্তীর এদিনের এই সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং উন্নয়নমূলক সফর কোচবিহারের সার্বিক স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেই মনে করছে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক ওয়াকিবহাল মহল। তবে মহাগুরুর এই আন্তরিক উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কবে বাস্তব রূপ পায় এবং সাধারণ রোগীরা এর সুফল পান, এখন সেটাই দেখার।

     
  • Link to this news (আজ তক)