• ‘কেমন আছো গো?’ কলকাকলি রাজনীতিতে, লুকিয়ে কোন রহস্য?
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • এই সময়: ‘কেমন আছো গো?’

    এমনিতে প্রশ্নটা নিরীহ। এবং সৌজন্যমূলক। কিন্তু বাং‍লার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নিরীহ প্রশ্নই আলোড়ন ফেলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতারা অনেকেই মুচকি হাসির ইমোজি–সহ পোস্ট করছেন, ‘কেমন আছো গো?’

    কেন? কী রহস্য লুকিয়ে আছে সাদামাটা এই প্রশ্নে? জবাবে ‘ভালো আছি’ বললেই তো ল্যাটা চুকে যায়। ‘কেমন আছো’ জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে হঠাৎ রাজনীতির জল ঘোলা হচ্ছে কেন?

    তার কারণ আছে। বুধবার রাতে বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার অরূপ চক্রবর্তী এবং সুশান্ত ঘোষও তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের পুরোনো সৈনিকরা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছেন। খুব শিগগিরই তৃণমূলে শুধু পিসি আর ভাইপো থেকে যাবেন।’ এই পোস্টে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খোঁচা আছে। আক্রমণের ঝাঁজও আছে। তবে বঙ্গ–রাজনীতিতে হইচই ফেলে দেওয়ার মতো কোনও পোস্ট এটা নয়। কিন্তু এই পোস্টটার রাজনৈতিক গুরুত্ব এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোট্ট একটি কমেন্ট। যেটা করেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কেয়ার ওই পোস্টের নীচে তিনি লিখেছেন, ‘কেম‍ন আছো গো?’

    এরপরেই বিজেপি নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতে শুরু করেছে একটাই প্রশ্ন, ‘কেমন আছো গো?’ সঙ্গে নানারকম হাসির ইমোজি। কেয়াকেও তাঁর দলের অনেকে ফোন করে মজা করে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘কেমন আছো গো?’ কেয়ার কথায়, ‘গতকাল থেকে আমি শুধু কেমন আছো গো শুনছি। মজাও লাগছে। তবে মিসড কল দিয়ে লাভ নেই।’

    কাকলি হয়তো সরল মনেই কেয়া কেমন আছেন, সেটা জানতে চেয়েছেন। কিন্তু বারাসতের তৃণমূল সাংসদের এই প্রশ্নে গেরুয়া ব্রিগেডের অনেকেই শুনতে পেয়েছেন কাতর আর্জির করুণ সুর—‘কেমন আছো গো?’ এক বিজেপি নেতার কথায়, ‘এত বছরে একবারও একজন বিজেপি নেতা–নেত্রীর শরীর–স্বাস্থ্যের খবর জানার সাধ হয়নি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের! ৪ মে তৃণমূল হারতেই উনি বিজেপি নেতা–নেত্রীদের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রশ্ন করছেন, কেমন আছো গো? আসলে বিজেপির দরজায় কড়া নাড়ছেন।’ যদিও কাকলির দাবি, ‘কেয়া আমার পূর্ব পরিচিত। তাই জানতে চেয়েছি কেমন আছে? রাজনীতির বাইরেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে।’ তবে রাজনীতির মাঠে কাকলি এখন ‘ট্রেন্ডিং’। ইতিমধ্যেই তিনি তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সেই সঙ্গে নিজের দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপও দেগেছেন। যা বিজেপিকে বার্তা দেওয়াই বলে ম‍নে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    কাকলির ‘কেমন আছো গো’ প্রশ্নকে ঘিরে রহস্য ঘণীভূত হওয়ার ‍আরও একটা কারণও আছে। বুধবার কাকলি নিজেকে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের ‘ফ্যান’ বলেও দাবি করেছেন। অথচ বিধানসভা ভোটের আগে একটি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের ডিবেটে হাজির হয়ে এই অগ্নিমিত্রাকেই তিনি ‘বিলো দি বেল্ট’ আক্রমণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অগ্নিমিত্রার উদ্দেশে কাকলি বলেছিলেন, ‘উনি শাড়ি–টাড়ি ছাপেন। কিন্তু আজ ওঁর বক্তৃতা শুনে মনে হলো, ভালো ‍নাটকও করতে পারেন।’ ভোটের ফল প্রকাশের পরে অবশ্য সুর বদলে গিয়েছে ওই তৃণমূ‍ল সাংসদের। অন্য একটি টিভি চ্যা‍নেল থেকে কাকলির কাছে জা‍‍নতে চাওয়া হয়, কেন তিনি সে দিন অগ্নিমিত্রাকে ওই সব কথা বলেছিলেন? জবাবে লাজুক হেসে কাকলি বলেন, ‘আমি না ওঁর (অগ্নিমিত্রা) ফ্যান। সেদিন তো মজা করেছিলাম। আমি তো ভাবছি ওঁর কাছে যাব। দু’–তিনটে শাড়ি চেয়ে নিয়ে আসব।’

    মঙ্গলবার নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রার সঙ্গে দেখা হয়েছিল কাকলির। সূত্রের খবর, অগ্নিমিত্রাকে ‘সুন্দরী’ আখ্যা দিয়ে বারাসতের সাংসদ সে দিনও জানতে চেয়েছিলেন, ‘কেমন আছো গো?’

  • Link to this news (এই সময়)