শুক্রবার ভোররাতে উত্তরপ্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। প্রবল ঝড়ে ধসে পড়ল হামিরপুর জেলায় বেতওয়া নদীর ওপর তৈরি হওয়া একটি নির্মীয়মাণ সেতুর একাংশ। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে কমপক্ষে ছয় জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আরও অনেকের আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ।
শুক্রবার ভোর তিনটে নাগাদ প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুর প্রায় এক কিলোমিটার অংশ আচমকা ভেঙে পড়লে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়, বহু শ্রমিক গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঝড়ের তীব্রতা বাড়ার পর সেতুর পিলার ও স্ল্যাব কাঁপতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই নির্মীয়মাণ অংশটি ভেঙে নদীর মধ্যে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার সময়ে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেতুর উপর এবং নীচে কাজ করছিলেন।
ঘটনার পরেই পুলিশ, দমকল, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলার একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী ক্রেন ও কাটার মেশিন এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে সাহায্য করছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত শ্রমিকদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও নির্মাণকাজে নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতির জেরেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতুর নির্মাণে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় মানুষ নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধী দলগুলিও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।