• অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণে ‘ত্রাতা’ বিজেপি বিধায়করা
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • প্রদীপ চক্রবর্তী ও দিব্যেন্দু সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু করার আগে শুরু হয়েছে তালিকা ঝাড়াই বাছাইয়ের কাজ। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে যাতে মহিলাদের হয়রান হতে না হয়, তার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন বিজেপি বিধায়করা। পুরসভা, ব্লক অফিস এবং পঞ্চায়েত অফিসেও শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্বচ্ছ তালিকা তৈরির জন্য কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন বিজেপির নেতা–কর্মীরাও।

    জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও মহকুমা শাসকরা পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলির মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়করাও নিজেদের উদ্যোগে বুথে বুথে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণ ও জমা নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে যে ১২ পাতার ফর্ম ছাপা হয়ে​ছে, তাতে যে সব তথ্য চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে কিছুটা হলেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। শাসকদলের একাধিক বিধায়ক স্বীকার করে নিয়েছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন ফর্মে যে সব তথ্য চাওয়া হয়েছে, সেটা অনেকের পক্ষেই জোগাড় করা সম্ভব হবে না। সেই সুযোগ নিয়ে অনেকে ফর্ম পূরণের জন্য ২০০–৫০০ টাকা চেয়ে বসছেন। অনেকেরই ব্যাঙ্কের সঙ্গে আধার সংযুক্ত করা নেই। সেই কাজটা করে দেওয়ার জন্য অনেকে টাকা চাইছেন। এর ফলে অনেকে প্রতারিত হতে পারেন। সেজন্যই দলের নেতা–কর্মীদের এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে।

    শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য এ দিন বলেন, ‘আমরা অফিস থেকে অন্নপূর্ণার ফর্ম বিলি করা শুরু করেছি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই সরকারি নিয়মমাফিক ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়া হবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখেই সবটা হবে। আগের সরকারের মতো মেয়েদের টাকা ছেলেদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে না। আবেদনকারীদের নথি যাচাই করেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়া হবে।’ পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ এবং আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ জানিয়েছেন, অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণের জন্য জুন মাসের ১৫– ১৭ তারিখ পর্যন্ত ব্লকে ব্লকে এবং প্রতিটি পৌরসভা এলাকায় তিন দিনের সরকারি শিবির হবে। সেখানে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ছাড়াও বিজেপি দলের কার্যকর্তারাও হাজির থাকবেন। স্থানীয় বিধায়করাও থাকবেন। তাঁরা অন্নপূর্ণার ফর্ম পূরণের ব্যাপারে মহিলাদের সহযোগিতা করবেন। বিডিও এবং এসডিও–রা গোটা বিষয়টি তদারকি করবেন।

    যদিও এ নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটের আগে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যে সব মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান, তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে। এখন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের তথ্য চাওয়া হচ্ছে। ফলে মহিলাদের মধ্যে আশঙ্কার মেঘ তৈরি হয়েছে।

    এ বিষয়ে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি অরিন্দম গুঁই বলেন, ‘ভোটের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি মহিলাদের দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে সেই প্রতিশ্রুতি তাঁরা কতটা রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার।’

    হুগলি জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য আগামী ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন মহিলারা। ফর্ম জমা নেওয়ার পরে সমস্ত তথ্য যাচাই করা হবে। তার জন্য পুরসভা ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা ছাড়াও বিএলও–দের কাজে লাগানো হবে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের মধ্যে তালিকা ঝা়ডাই বাছাইয়ের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। তবে তথ্যে কোনও গরমিল থাকলে বাতিল হয়ে যেতে পারে আবেদনপত্র। শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন তাঁরা।

  • Link to this news (এই সময়)