ফিরছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি? নবান্ন থেকে যা জানা যাচ্ছে
আজ তক | ২৯ মে ২০২৬
রাজ্যের কোষাগারের আয় বাড়াতে ফের চালু হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লটারি’। নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের আর্থিক ভিত আরও মজবুত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশের পরই লটারি ফের চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই অর্থ দফতর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাজারে যে টিকিট বিক্রি হবে না, সেগুলি যেন কোনওভাবেই লটারির ড্র-এর অন্তর্ভুক্ত না হয়। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে জোর দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের যুক্তি, বর্তমানে ভিনরাজ্যের একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নিয়ে এখানে লটারির ব্যবসা চালাচ্ছে। এর ফলে বিপুল অর্থ রাজ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই কারণেই এবার সরকার নিজেই সরাসরি এই ব্যবসার দায়িত্ব নিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পথে হাঁটতে চাইছে।
একসময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজেই নিয়মিত সাপ্তাহিক ও বাম্পার লটারির আয়োজন করত। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্য লটারি বিভাগ ৪৮টি সাপ্তাহিক খেলা এবং ৬টি বিশেষ বাম্পার লটারি পরিচালনা করত। ‘বঙ্গলক্ষ্মী’, ‘বঙ্গলক্ষ্মী সুপার’ ও ‘বঙ্গভূমি সুপার’-এর মতো জনপ্রিয় লটারির টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছিল। সাপ্তাহিক টিকিটের মূল্য ছিল ২ ও ৫ টাকা, আর বাম্পার সিরিজের টিকিট পাওয়া যেত ১০ টাকায়।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, সেই সময় বছরে প্রায় ৬৬ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হত এবং রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা নিট রাজস্ব আসত। পরে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে প্রতিদিন লটারির খেলা চালু হওয়ার পর আয় আরও বাড়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে এক হাজার কোটি টাকারও বেশি টিকিট বিক্রি করে রাজ্য সরকার প্রায় ২২৩ কোটি টাকা আয় করেছিল। পরের অর্থবর্ষেও প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু ২০২০ সালের মার্চ মাসে আচমকাই রাজ্য লটারি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে এই ব্র্যান্ডকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার জন্য টেন্ডার ডাকা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি। ফলে গত চার বছর ধরে পুরো প্রকল্প কার্যত বন্ধই ছিল। এবার নতুন সরকারের উদ্যোগে সেই লটারি ব্যবসাই ফের সরকারি নিয়ন্ত্রণে ফিরতে চলেছে।