বাঁকুড়ায় সাভারকর জয়ন্তী পালনে হাজির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, উঠে এল চমকপ্রদ ইতিহাস
News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
বাঁকুড়া শহরের রানীগঞ্জ মোড়ে বীর বিনায়ক দামোদর সাভারকরের মূর্তির পাদদেশে পালিত হল সাভারকর জয়ন্তী। হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া বিধানসভার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার। মূর্তিতে মাল্যদান, শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন এবং সাভারকারের রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয়তাবাদী ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাঁকুড়ার মত জেলার শহরাঞ্চলে সাভারকরের নামে সরণি এবং মূর্তির উপস্থিতি অনেকের কাছেই এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে। বাঁকুড়ায় সাভারকরের প্রভাবের শিকড় খুঁজতে গেলে উঠে আসে হিন্দু মহাসভার ইতিহাস। ‘বাঁকুড়া জেলা হিন্দুমহাসভার ইতিবৃত্ত’ অনুযায়ী, ১৯৩৭ সালে জেলায় হিন্দু মহাসভার আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা হয়। তৎকালীন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্রজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সংগঠনের প্রথম সভাপতি এবং শশাঙ্কশেখর চট্টোপাধ্যায় সম্পাদক নিযুক্ত হন।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আদর্শগত দূরত্ব থাকলেও হিন্দু সমাজ সংস্কার, বাল্যবিবাহ রোধ, বিধবা বিবাহের প্রসার ও সামাজিক অসঙ্গতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংগঠনটি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল বলে জানা যায়। বাঁকুড়া শহরকে কেন্দ্র করেই হিন্দু মহাসভার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কেঞ্জকুড়া, বিষ্ণুপুর-সহ জেলার বিভিন্ন অংশে সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তার লাভ করে এবং সর্বভারতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দু মহাসভার নেতা ভি. জি. দেশপাণ্ডের জয় সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাবকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটগুলি এদিনের সাভারকর জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন উপস্থিতরা। এদিন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বীর সাভারকর শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, তিনি ছিলেন এক এমন চরিত্র যিনি প্রভাবশালী চিন্তাবিদ, যার ভাবনা এখনও দেশের একাংশে প্রাসঙ্গিক। রানীগঞ্জ মোড়ে তার মূর্তির সামনে অনুষ্ঠিত এই সভা যেন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ইতিহাসের পাতায় থাকা হিন্দু মহাসভার সঙ্গে বাঁকুড়ার সম্পর্ক আজও শহরের স্মৃতি ও রাজনৈতিক পরিসরে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।