• ভুট্টার মরশুমে গভীর জঙ্গলে পাঠানো হল গজরাজদের, আকাশ থেকে চলল নজরদারি
    News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
  • ভুট্টার প্রথম মরশুম শুরু হতেই ফের হাতির হানায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নকশালবাড়ি এলাকার একাধিক গ্রাম। তাই হাতি-মানুষ সংঘাত এড়াতে এবার বড় উদ্যোগ নিল কার্শিয়াং বনবিভাগ। বৃহস্পতিবার টুকরিয়াঝাড় বনাঞ্চল থেকে প্রায় ৫০টি হাতির দলকে নিরাপদে বাগডোগরা বনাঞ্চলে পাঠানোর জন্য বিশেষ ড্রাইভ চালানো হয়। বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে বিশাল হাতির দল টুকরিয়াঝাড় বনাঞ্চলে ঘাঁটি গেড়ে ছিল। বনাঞ্চল সংলগ্ন গ্রামগুলিতে হাতির হানার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছিল।

    বিশেষ করে ভুট্টা চাষের মরশুম শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই বনবিভাগ এই বিশেষ অভিযান চালায়। এদিন টুকরিয়াঝাড়, বাগডোগরা, ঘোষপুকুর এবং পানিঘাটা রেঞ্জের বনকর্মীরা যৌথভাবে হাতির ড্রাইভ পরিচালনা করেন। কিরণচন্দ্র চা বাগান সংলগ্ন ২ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের এলিফ্যান্ট করিডর পার করিয়ে হাতির দলটিকে বাগডোগরা বনাঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়। গোটা অভিযান ঘিরে এলাকায় কৌতূহলের পাশাপাশি সতর্কতাও জারি রাখা হয়।

    বনবিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হাতির গতিবিধির ওপর নজর রাখতে এবং অভিযানকে আরও কার্যকর করতে ড্রোন ব্যবহার করা হয়। পরিবেশপ্রেমী রিকজ্যোতি সিংহ রায় ড্রোনের মাধ্যমে পুরো অভিযানের লাইভ ফুটেজ সংগ্রহ করে বনবিভাগকে সহায়তা করেন। বনবিভাগের আধিকারিকরা জানান, বড় বনাঞ্চলে হাতির দলকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামাঞ্চলে হাতির অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    পাশাপাশি হাতিদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেও এলিফ্যান্ট করিডরগুলিকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তাঁরা। তবে এখনও উত্তম চন্দ ছাট বনাঞ্চলে প্রায় ১২টির মতো হাতি রয়েছে বলে বন বিভাগ সূত্রে খবর। ফলে আগামী কয়েকদিন এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদেরও সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।
  • Link to this news (News18 বাংলা)