বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ। দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করে চলেছেন একাধিক নেতা-মন্ত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ক্রমাগত উঠছে অভিযোগের আঙুল। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল তৃণমূল মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেবের। দলের ভবিষ্যৎ বলতে আর কিছু নেই বলেই মত তাঁর। তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
তৃণমূল নেতার মতে, ঘাসফুল শিবিরে এমন ভরাডুবির নেপথ্যে দুর্নীতি। গত পাঁচ বছর ধরে যা প্রায় পাহাড়প্রমাণ বলেই মত ছাড়া। তিনি মনে করেন, এই দুর্নীতির কথা অজানা ছিল না মমতা কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়েরও। তাঁর মতে, তৃণমূলের অন্দরে দু’টি ভাগ হয়ে গিয়েছিল। তৃণমূল নেতার কথায়, “একটি গোষ্ঠী ছিল মমতাদিকে ঘিরে। আরেকটি অভিষেককে ঘিরে। তাঁর গোষ্ঠীর বাইরে তৃণমূলের যাঁরা সাধারণ কর্মী, বিধায়ক-সাংসদরাও যেতে পারতেন না।” তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বজিৎ। তাঁর মতে, “একটি রাজনৈতিক দল অথচ বাণিজ্যিক কোনও সংস্থার মাধ্যমে কর্পোরেট টিমের মাধ্যমে ডিল করতে হবে, নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ থাকবে না, তা হতে পারে না।”
বিশ্বজিৎ দেবের দাবি, দলের এই ‘অন্তঃসারশূন্যতা’ নিয়ে নাকি মুখ খোলার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাতে লাভ হয়নি। বরং ক্রমশ কোণঠাসা করে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আইপ্যাকই কলকাঠি নাড়ে বলেই অভিযোগ। ঠিক সেই অভিমানেই নাকি গত বছর তিনেক ধরে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা। তাঁর মতে, এই বিপর্যয়ের দায় মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিতেই হবে। বিশ্বজিৎবাবুর ভবিষ্যদ্বাণী, “টুকরো টুকরো হয়ে যাবে তৃণমূল। আমার ধারণা, কিছু নেতা-কর্মী চলে যাবেন কংগ্রেসে। কেউ বিজেপিতে। আবার কেউ সিপিএমে। আমরা আগে বলতাম কংগ্রেস, সিপিএম সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে। এবার তৃণমূলটাও হয়ে যাবে।” খুব শীঘ্রই এমন হতে চলেছে বলেই মত তাঁর।