পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব এ বার ডোমেস্টিক ফ্লাইটের পরিষেবাতেও পড়তে চলেছে। জুন থেকে অগস্ট পর্যন্ত তিন মাস ঘরোয়া উড়ানের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ দুই সংস্থা ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়া। তারা উড়ানের সংখ্যা কাটছাঁটের যে হিসেব দিয়েছে, তাতে দিনে অন্তত ২৫০ ঘরোয়া বিমান বাতিল হবে। আশঙ্কা, এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে পারেন দেশের বড় বড় শহরগুলির যাত্রীরা। এতে বিমান যাত্রার খরচ খানিকটা হলেও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিমানের জ্বালানি অটোমেটিক ট্রান্সমিশন ফ্লুইড বা এটিএফের খরচ এতটাই বেড়েছে যে নাভিশ্বাস ওঠার দশা। তার উপর উড়ান সফরের চাহিদাও কমেছে। তা নজরে রেখেই উড়ানের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো। এয়ার ইন্ডিয়া অভ্যন্তরীণ উড়ানের সংখ্যা ২০-২২ শতাংশ কমাবে। এখন তারা দিনে অন্তত ৫০০ উড়ান চালায়। হিসাব মতো, জুন থেকে ১১০টি উড়ান কম চালাবে তারা। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসও ১০ শতাংশ কমাবে উড়ানের সংখ্যা।
ইন্ডিগো এখন দিনে ২২০০ উড়ান চালায়। তারাও যদি উড়ানের সংখ্যা ৫-৭ শতাংশ কমিয়ে দেয়, তা হলে তাদের ১১০টি উড়াল বাতিল হবে। অর্থাৎ, বাতিল হওয়া উড়ানের সংখ্যা সব মিলিয়ে আড়াইশো হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। উড়ান সংস্থাগুলির সূত্রের দাবি, প্রতি কিলোলিটার এটিএফের দাম ৭৫-৮০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১,০৯,৪৫০ টাকা (কলকাতায়)। তার উপর রয়েছে যুক্তমূল্য কর বা ভ্যাট। তাই যে রুটে বিমান চালিয়ে তেমন লাভ হচ্ছে না, সেগুলি আপাতত বন্ধ রাখা হবে। তবে কোনও গন্তব্যে একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে না।
গরমের ছুটির মধ্যে বিমান সংস্থাগুলির এই সিদ্ধান্তে বহু যাত্রীই বিপাকে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মত, মূলত মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরুর যাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়বেন। কমবে মুম্বই থেকে জয়পুর, গোয়া, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, আমেদাবাদ, নাগপুর, পাটনা এবং ভোপাল যাওয়া-আসার উড়ান। দিল্লি-কলকাতা উড়ানের সংখ্যাও কমবে। তবে তার বাইরে কলকাতার যাত্রীরা খুব বেশি বিপাকে পড়বেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।