এই সময়, দুর্গাপুর ও বাঁকুড়া: রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বার পুলিশের জালে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ। এক রাতের ব্যবধানে দুই জেলায় গ্রেপ্তার হলেন দুই দাপুটে তৃণমূল নেতা। এক বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দুর্গাপুরে যেমন ধরা পড়লেন এক জন, তেমনই বাঁকুড়ায় দলীয় মহিলা সহকর্মীকে মারধরের অভিযোগে শ্রীঘরে গেলেন আর এক নেতা।
প্রথম ঘটনাটি দুর্গাপুরের। রাতের অন্ধকারে এক বিজেপি নেতার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়লেন তৃণমূল নেতা রাজীব ঘোষ। দুর্গাপুর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের সাংগঠনিক ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি রাজীবকে বুধবার রাতে স্টিল টাউনশিপের তানসেন মার্কেট থেকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বিজেপি কর্মীরা। ২০২১–এর ভোট–পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি এবং বিজেপি কর্মীদের মারধর সমেত একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন রাজীব।
৪ তারিখ ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি গা–ঢাকা দিয়েছিলেন। বুধবার রাতে তানসেন মার্কেটে এক বিজেপি নেতার সঙ্গে তিনি দেখা করতে যান মূলত বিজেপিতে যোগ দেওয়ার তদ্বির করতে। খবর পেয়েই অন্যান্য বিজেপি কর্মীরা সেখানে চড়াও হয়ে রাজীবকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। দুর্গাপুর থানার অধীন বি–জ়োন ফাঁড়ির পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পরে বিজেপি কর্মীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজীবকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নিয়ে আসা হলে আদালত চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পদ্ম–কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তেজিত কয়েকজন বিজেপি কর্মী পা থেকে জুতো খুলে রাজীবকে মারতেও উদ্যত হন, তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তা প্রতিরোধ করেন। বিচারক রাজীবকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, ‘রাজীব ও তাঁর অনুগামীরা আমাদের বহু কর্মীকে মারধর করেছে। মহিলা কর্মীদেরও রেয়াত করেনি। আমাদের কর্মীদের বাড়িতে বোমা ছুড়েছে। কঠোর শাস্তির দাবি করেছি আমরা।’
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ায়। সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছেন জয়পুর পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জয়পুর ব্লক সভাপতি প্রশান্ত বসাক। তাঁরই দলের এক মহিলা কর্মাধ্যক্ষকে মারধর ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে প্রশান্তকে গ্রেপ্তার করে জয়পুর থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।