• বর্ষা আসছে, তিস্তায় মেগা জল প্রকল্পের ইনটেক তৈরির কেন্দ্রীয় অনুমোদন অমিল
    বর্তমান | ২৯ মে ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শুখা মরশুম চলে যাচ্ছে। চোখ রাঙাচ্ছে বর্ষা। তবু গজলডোবায় তিস্তা নদীতে মেগা জল প্রকল্পের ইনটেক ওয়েল তৈরির অনুমোদন পায়নি শিলিগুড়ি পুরসভা। ফলে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ। এনিয়ে বেকায়দায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পুরসভা। তাদের এ ব্যাপারে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তদবির করছে। যদিও বিজেপির একাংশের বক্তব্য, আগামী আট-ন’মাসের মধ্যে বর্তমান বোর্ড প্রকল্পটি শেষ করতে পারবে না। 

    অম্রুত-২ প্রকল্পে বেশ কয়েক বছর আগে মেগা জল প্রকল্পে হাত দিয়েছে পুরসভা। ৫১১ কোটি টাকার ওই প্রকল্প দু’টি পর্যায়ে হচ্ছে। যারমধ্যে প্রথম পর্যায়ে তিস্তা নদীতে ইনটেক ওয়েল তৈরি। পুরসভা সূত্রে খবর, ইনটেক ওয়েলের জন্য নদীর জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। তা গড়তে কেন্দ্রীয় ওয়াইল্ড লাইফ কমিশনের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ওয়েল তৈরির অনুমোদন মেলেনি। 

    শিলিগুড়ি পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের মেয়র পারিষদ দুলাল দত্ত বলেন, ইনটেক ওয়েলের অনুমোদনের জন্য একাধিকবার কেন্দ্রীয় ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনও অনুমোদন এলে নদীতে প্রকল্পের কাজ করা যাবে। কিন্তু আর কয়েকদিন পর বর্ষা নামবে। তখন অনুমোদন আসলেও ওয়েল নির্মাণ কাজ করা যাবে না। এজন্য প্রকল্পটি অতিরিক্ত কয়েক মাস ঝুলে থাকবে। তবে গজলডোবা থেকে ফুলবাড়ি প্লান্ট পর্যন্ত নদীর অপরিস্রুত জল নিয়ে যাওয়ার জন্য পাইপ লাইনের কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ। সংশ্লিষ্ট এলাকার দূরত্ব প্রায় ২৮ কিমি। 

    ২০২৭ সালের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প শেষ করার কথা। পুরসভা সূত্রে খবর, ইনটেক ওয়েলের স্থান চিহ্নিত করেই ওয়াইল্ড লাইফ বোর্ডের কাছে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। দীর্ঘদিন পর সংশ্লিষ্ট বোর্ড এলাকা সম্পর্কে রিপোর্ট চায়। তাও পাঠানো হয়। এতকিছুর পরও অনুমোদন আসেনি। ইনটেক ওয়েল তৈরির কাজ শুরু না হওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জল প্রকল্প চালু করা যাবে কি না তা নিয়ে পুরসভার একাংশ সন্দিহানে রয়েছে। তাদের অভিযোগ, সম্ভবত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ওয়েলের ছাড়পত্র দেওয়া ঝুলিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

    যদিও পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন ওই অভিযোগ মানতে নারাজ। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জল প্রকল্পের জন্য বর্তমান পুরবোর্ড কখনই স্থানীয় বিধায়ক শংকর ঘোষ ও এমপি রাজু বিস্তার সহযোগিতা চায়নি। আমাদেরও কিছু জানায়নি। তবে এবার বিষয়টি নিয়ে আমরা বিধায়ক ও এমপির মাধ্যমে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করব। কাজেই উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি বিজেপি কোনোদিন করেনি, করবেও না। ওটা তৃণমূলে সংস্কৃতি। তবে ন’মাস পর  পুরসভায় আমরা আসছি। আমরাই প্রকল্পটি চালু করব। 
  • Link to this news (বর্তমান)