• হাকিমপুর থেকে বসিরহাট, হোল্ডিং সেন্টারে 'দেশে' ফেরার অপেক্ষা, সীমান্তে শয়ে শয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী
    News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
  • আজও হাকিমপুর সীমান্তে বাংলাদেশিদের ভিড়, বাংলাদেশে যাওয়ার উদ্দেশে শতাধিক বাংলাদেশি স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছে, এর আগে যারা এখানে এসে উপস্থিত হয়েছিল তাদের মধ্যে বেশ কিছু বাংলাদেশিকে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৈরি করা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার। রাজ্য পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৩৮৬ জনকে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশ আটক করা হয়েছে বসিরহাট জেলায়, সেখানে আটকের সংখ্যা ৩৩৫ জন।

    বসিরহাটের তেঁতুলিয়া পাথরশাঠি, চারঘাট ফ্লাড সেন্টার ও মিডিয়া সুভাষনগর ফ্লাড সেন্টারে রাখা হয়েছে তাঁদের। মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় রয়েছে ১৯ জন আটক ব্যক্তি। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন এবং মালদায় ৯ জনকে রাখা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে।

    বারুইপুর, বারাসত, কোচবিহার, জঙ্গিপুর, কৃষ্ণনগর ও বনগাঁ পুলিশ জেলাতেও রয়েছে আটক একাধিক অনুপ্রবেশকারী। রাজ্য প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এই সমস্ত হোল্ডিং সেন্টারে। ডিটেনশন ও ডিপোর্টেশন প্রক্রিয়া ঘিরে জেলাগুলিকে বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এর আগে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেছিলেন, “কোনও অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতবর্ষে থাকতে পারবে না। তাদের জেলে ভরা হবে না, কারণ জেলে রাখলে দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় তাদের খাওয়া-চিকিৎসার দায় নিতে হবে। তাই ধরা পড়লে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে এবং পরে বিএসএফের হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

    প্রসঙ্গত, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হতেই আবার বাংলাদেশে ফেরার হিড়িকের ছবি দেখা গিয়েছে। গত বছর রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্তে যে ছবি দেখা গিয়েছিল, সেই একই ছবি দেখা যায় চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবারও।

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাকিমপুর চেকপোস্টে জড়ো হন শতাধিক পুরুষ-মহিলা। তাঁরাই নিজেদের বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সরকার-প্রশাসন তাঁদের আর ভারতে রাখতে চাইছে না। তাই তাঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান। তাঁরা চান, বিএসএফ যাতে তাঁদের ওপারে ফিরিয়ে দেয়।

    হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড়ের মধ্যে থেকে কেউ কেউ জানান, তাঁরা অনেক বছর ধরেই ভারতে রয়েছেন। কেউ তিন বছর, কেউ আবার পাঁচ বছর।

    গত বছর ২৭ অক্টোবর ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘোষণা হওয়ার পরেও একই ভাবে হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হয়েছিল বহু বাংলাদেশি। সেই সময়েও তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা অবৈধ ভাবেই এ দেশে প্রবেশ করেছেন। সেই এসআইআর প্রক্রিয়া মেটার পরে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। সরকার গড়েছে বিজেপি। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অবৈধ ভাবে প্রবেশকারী বাংলাদেশি, রোহিঙ্গারা তো বটেই, যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তাঁরাও অনুপ্রবেশকারী হিসাবে বিবেচিত হবেন। প্রথমে তাঁদের আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে। পরে তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেবে পুলিশ। ঘটনাচক্রে, তার পরেই আবার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার হিড়িক দেখা গেল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)