প্রতিকূলতা জয় করে পিএইচডি, ১৫ বই প্রকাশ! দাঁতনের প্রত্যন্ত গ্রামের এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের জীবন যেন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা
News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম জাহালদা। এই গ্রামেই জন্ম কালীপদ প্রধানের। পরিবারে শিক্ষার তেমন কোনও চল ছিল না। বাবা-মা কেউই প্রায় পড়াশোনা জানতেন না। বাড়িতেও ছিল না পড়াশোনার কোনও অনুকূল পরিবেশ। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতেন তিনি। স্কুলের এক শিক্ষকের সম্পাদিত বইয়ে সামান্য কিছু অংশ লেখার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই শিক্ষকের অনুপ্রেরণাতেই শুরু হয় তাঁর পথ চলা। সেই যে কলম ধরেছিলেন, আজ অবসর জীবনের সাত বছর পেরিয়েও তা থামেনি। স্কুলজীবন থেকে শুরু হওয়া সেই নেশাই এখন তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের মূল রসদ।
গ্রামের স্কুল পেরিয়ে মেদিনীপুর, তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন কালীপদবাবু। এরপর পিএইচডি এবং শিক্ষকতা। পেশাগত জীবনে প্রধান শিক্ষকের গুরুদায়িত্ব সামলালেও, লেখার নেশা তাঁকে কখনও ছেড়ে যায়নি। তাঁর ভাবনা মূলত বিশ্লেষণধর্মী। সাহিত্য ও সমাজের নানা অজানা বিষয়কে পাঠকের সামনে তুলে ধরাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিদ্যাসাগরের সঙ্গে সাংবাদিকতার সম্পর্ক, বঙ্কিমচন্দ্রের চরিত্রের নানা দিকের বিশ্লেষণ কিংবা ফকির মোহন সেনাপতির সাহিত্যকীর্তি— সবকিছুই নিপুণ ভাবে উঠে এসেছে তাঁর কলমে। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল প্রখ্যাত সাহিত্যিক মনোজ দাসের জীবন ও সৃষ্টি। তাঁকে নিয়েও তিনি বিস্তারিত কাজ করেছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর লেখা ১৫টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে।
অবসর নেওয়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু কালীপদবাবুর জীবনযাত্রা একটুও বদলায়নি। সারাদিন তিনি বুঁদ হয়ে থাকেন পড়াশোনা, নতুন ভাবনা আর লেখালিখির জগতে। তাঁর মতে, বইয়ের মাধ্যমেই তিনি নিজের ভাবনার প্রকৃত প্রকাশ ঘটাতে পারেন। সমাজের ও বাস্তবের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন। বর্তমান প্রজন্ম যখন বই পড়া বা লেখার প্রতি আগের মতো আগ্রহ দেখায় না, তখন এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিজের লেখনীর জগতেই পরম শান্তি ও আনন্দ খুঁজে পান। বই লিখে তিনি এখনও বেশ ভাল আছেন।
এই বয়সেও তিনি যে এতটা সুস্থ ও কর্মক্ষম রয়েছেন, তার পিছনেও রয়েছে এই নিরন্তর সাহিত্য সাধনা। তাঁর এই অধ্যবসায় এবং সারাদিনের বৌদ্ধিক ভাবনা-চিন্তা নিঃসন্দেহে যে কোনও মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।