আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা ঘিরে এবার নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বীরভূমের রাজনৈতিক মহলে। কারণ, রাজ্য পুলিশের সমস্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর এবার তাঁর জন্য বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীর খোঁজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
একসময়ের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা বলয় গত কয়েক মাস ধরেই ধাপে ধাপে কমানো হচ্ছিল। প্রথমে তুলে নেওয়া হয় তাঁর ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা। পরে সর্বক্ষণের জন্য একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী রাখা হলেও, বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেই ব্যবস্থাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আর তারপর থেকেই ঘনিষ্ঠ মহলে বাড়তে শুরু করেছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। সূত্রের খবর, বর্তমানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, বীরভূমের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নেতার কয়েকদিন আগেই তাঁর ওয়াই প্লাস ক্যাটেগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এরপর অস্থায়ীভাবে সর্বক্ষণ একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রাখা হয়েছিল। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। ফলে এখন অনুব্রত মণ্ডলের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে শূন্যে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্য পুলিশের তরফে একাধিক ধাপে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁট করা হয়েছিল। বীরভূমের রাজনৈতিক পালাবদলের পর অনুব্রত মণ্ডল, একই সঙ্গে কাজল শেখ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। সেই সময় তাঁদের পাইলট, স্কর্ট এবং হাউস গার্ড প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বর্তমানে অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও পরিবর্তিত হয়েছে, কারণ আগে যেখানে সীমিত নিরাপত্তা থাকলেও একজন সশস্ত্র রক্ষী মোতায়েন ছিল, এখন সেটিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এটি একটি নিয়মিত নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার অংশ। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার এটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে।
অন্যদিকে কাজল শেখ ও চন্দ্রনাথ সিনহার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা কমিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সীমিত রক্ষী মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে বীরভূমে এই তিন নেতার নিরাপত্তা ঘিরে যে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছিল, তা এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন নজর থাকবে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে কীভাবে গড়ে ওঠে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তার উপর।