• ABVP 'অচেনা' প্রতিপক্ষ, SFI-কে রণকৌশল শেখাবেন BJP শাসিত রাজ্যের 'ধুরন্ধর'রা
    আজ তক | ২৯ মে ২০২৬
  • বাংলায় পালাবাদল হয়েছে। এরপর কলেজ থেকে রাতারাতি উধাও হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি। এখন কলেজ জুড়ে শুধু আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপি এবং সিপিআইএম-এর এসএফআই। আগামীর লড়াই মোটামুটি এই দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যেই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে বসেছিল এসএফআই। সেখানেই বিজেপি শাসিত রাজ্যের ছাত্র সংগঠনের নেতানেত্রীরা বাংলায় এসে এখানকার কমরেডদের এবিভিপি-এর সঙ্গে লড়াই করার স্ট্যাটেজি শেখাবেন বলে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর।

    আর এই বিষয়টা সম্পর্কে জানতে bangla.aajtak.in যোগযোগ করেছিল এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে-এর সঙ্গে। তিনি প্রথমেই এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেন। তারপর বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, 'এখন ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে এসে পড়েছে গোটা লেখাপড়ার ক্ষেত্র। কারণ, বিজেপির ট্র্যাক রেকর্ড লেখাপড়ার ক্ষেত্রে গোটা ভারতবর্ষে খুব খারাপ। লেখাপড়ার জায়গাটা রসাতলে গিয়েছে গত ১৫ বছরে। আবার ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে দিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষার জন্য যা করার দরকার, সেই ব্যবস্থা বিজেপির সরকার করবে। আর বিজেপির প্রাইভেট এডুকেশনের মডেল ত্রিপুরাতে, গুজরাতে, মধ্যপ্রদেশে, উত্তরপ্রদেশে, মহারাষ্ট্রে সর্বত্র দেখেছি। লেখাপড়ার দুর্নীতির ক্ষেত্রে নিটের দুর্নীতি, এতো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে যে বিজেপি কোন লেভেলের দুর্নীতি করতে পারে।'

    তাঁর দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এসএফআইয়ের ছেলেমেয়েরা যেভাবে লড়াই করছে, সেই লড়াইয়ের থেকেও এই রাজ্যের কমরেডদের শিক্ষা নিতে হবে। তাঁর কথায়, 'তাঁরা আসবে, আমরা যাবো, জানা-বোঝা হবে। এই তো স্বাভাবিক, সর্বভারতীয় সংগঠন। সেই সর্বভারতীয় সংগঠনের যেরকম ভাবে হয়।'

    ক্যাম্পাসে লড়াই থাকবে 
    দেবাঞ্জনের অভিযোগ, 'এই লড়াইটা হচ্ছে রাজনীতিকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই। বিজেপি, আরএসএস, এবিভিপি এদের প্রধান লক্ষ্য হল ক্যাম্পাস রাজনীতি বা ক্যাম্পাসের ভেতরে তৈরি হওয়া সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, এই মূল্যবোধগুলোর জায়গা ধ্বংস করার।'

    তিনি জানান, আরএসএস-এর ঘোষিত নীতি যে তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে এই পরিবেশ রাখতে চায় না। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্যাম্পাসের ভেতরে এই পরিবেশ রাখতে দেয়নি তৃণমূল। এসএফআই মনে করে সেটা আরএসএস-এর নির্দেশেই তৃণমূল সেই পরিবেশ রাখতে দেয়নি ক্যাম্পাসের ভেতর। এই মতামতের বিরুদ্ধে লড়াই করবে এসএফআই।

    হঠাৎ করে সব তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন বিজেপি হয়ে গিয়েছে
    এই প্রসঙ্গে দেবাঞ্জনের বক্তব্য, 'সরকার বদল হওয়ার পরে আমরা দেখলাম যারা দু-তিন দিন আগে টিএমসিপি করছিল, এখন এবিভিপি হয়ে গেছে। গলায় একটা উত্তরীয় ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ইউনিয়ন রুম দখল করছে। এতদিন এরা তৃণমূল করত। এর বিরুদ্ধে একমাত্র লড়াই করবে এসএফআই।' 

    দ্রুত ভোট চাই
    বহুদিন ছাত্র ভোট হয়নি। তাই নতুন সরকারের কাছে দ্রুত ছাত্র ভোট করানোর দাবি করলেন তিনি। তাঁর কথায়, 'দ্রুত সমস্ত ছাত্র সংগঠনকে এক জায়গায় করে সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে কথা বলা। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন করতে হবে। ক্যাম্পাসের চরিত্র বদলেছে। কোর্সগুলোর চরিত্র বদলেছে। আগে ১+১+১ সিস্টেম ছিল।এখন তো সেমিস্টার সিস্টেম। তাহলে ১৭ সালে শেষ নির্বাচন যে গাইডলাইনে হয়েছে, ২৬ সালের নির্বাচন তো সেই গাইডলাইনে হবে না। তাহলে আগে তো গাইডলাইনটা তৈরি করতে হবে।' 

    পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে ভোট হলেও লড়তে রাজি এসএফআই। তারা অনেক কলেজেই ভোটে জিতে আসবেন। এখন এই সব দাবির বাস্তব প্রতিফলন কতটা হয়, সেটা জানতে আরও কিছুটা সময় তো লাগবেই। 

     
  • Link to this news (আজ তক)