• সৌদিতে ফাঁসিকাঠের অপেক্ষায় ২০ বছর! অবশেষে ‘প্রাণের দাম’ চুকিয়ে ভারতে ফিরলেন প্রৌঢ়
    প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
  • কুড়ি বছর ধরে তিনি ছিলেন গরাদের ওপারে। ভারত থেকে গ্রাসাচ্ছেদনের তাড়নায় সুদূর সৌদি আরবে যখন পাড়ি দিয়েছিলেন কেরলের আবদুল করিম, তিনি ভাবতেও পারেননি সামনে কী অপেক্ষা করে রয়েছে। পেশায় চালক করিমের বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের অভিযোগ। অনিচ্ছাকৃত সেই কাণ্ডের জন্যই তাঁর ভাগ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিল মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ। শেষপর্যন্ত অবশ্য ‘প্রাণের দাম’ চুকিয়ে সেই বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন প্রৌঢ়। ফিরলেন দেশে।
    ঠিক কী হয়েছিল? জানা যাচ্ছে, ২০০৬ সালে রিয়াধে পৌঁছন রহিম। কেরলে বাস ও অটো রিকশা চালাতেন। লক্ষ্য ছিল, একই কাজ করে আরও বেশি উপার্জন করা। কাজ পেয়েও যান। এক ব্যক্তির সতেরো বছরের ছেলের সহকারীর কাজ। কিন্তু সেই ছেলেছি ছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে শ্বাস নিত। তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ভুল করে সেই যন্ত্রের সুইচটি বন্ধ করে ফেলেন রহিম। আর তাতেই ঘটে যায় অঘটন। মারা যায় ছেলেটি। এরপরই গ্রেপ্তার হন রহিম। সেই সময় মাত্র ২৮ দিন হয়েছে তিনি বিদেশে এসেছেন। বিচারে তাঁর ফাঁসির সাজা হয়। ২০১১ সালেই সেই সাজা দেওয়া হয় তাঁকে। এরপর থেকেই শুরু হয় বাঁচার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে তাঁর পাশে আগাগোড়া থেকেছে ভারতীয় দূতাবাস। তৈরি হয় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এক জন তহবিল ‘সেভ আবদুল রহিম’। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের কেরলিয়ানরা দান করেন সেই তহবিলে। লক্ষ্যই ছিল ‘ব্লাড মানি’ জোগাড় করা। অবশেষে সেই ৩৪ কোটি টাকার বিনিময়ে মুক্তি পান রহিম।
    কী এই ‘ব্লাড মানি’? ইসলামিক আইন অনুযায়ী, কাউকে অনিচ্ছাকৃত খুন, জখম কিংবা সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে আক্রান্ত বা তাঁর পরিবারকে নির্দিষ্ট সংখ্যক অর্থ দিয়ে পরিত্রাণ। সেই পথেই প্রাণে বাঁচলেন রহিম। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর মাথার উপরে ঝুলে থাকা ফাঁসির দড়ির ছায়া সরিয়ে অবশেষে তিনি ফিরেছেন দেশে। অবশ্য ২০২৪ সালের ২ জুলাই তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা রদ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশ ছিল ২০২৬ সালের ২০ মে পর্যন্ত রহিমকে থাকতেই হবে জেলে। কুড়ি বছর পূর্ণ করে এবার দেশে ফিরে এলেন তিনি। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানায় পরিবার। আবেগপ্রবণ রহিম ধন্যবাদ দিয়েছেন, সারা পৃথিবীর কেরলিয়ানদের, যাঁরা তাঁর মুক্তির স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলেছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)