• কর্নাটকে চাওয়া-পাওয়ার খেলা! কুর্সি ছেড়ে রাহুলের হাতে দাবির তালিকা ধরালেন সিদ্দা
    প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
  • কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেও একেবারে শূন্য হাতে গদি ছাড়তে নারাজ সিদ্দারামাইয়া। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেও শুক্রবার রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চাওয়া-পাওয়ার তালিকা ধরালেন কর্নাটকের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। যে তালিকায় সিদ্দার অন্যতম প্রধান আর্জি, হবু মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের ক্যাবিনেটে বিশেষ জায়গা দিতে হবে পুত্র যতীন্দ্র সিদ্দারামাইয়াকে।

    সূত্রের খবর, শুক্রবার রাহুল ও খাড়গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সিদ্দারামাইয়া ও এমএলসি পদে নিয়োগের জন্য নামের তালিকা পেশ করেন। এর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় কাদের নিয়োগ করতে হবে সে তালিকাও দেওয়া হয় হাইকমান্ডকে। এছাড়াও, তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন যে দপ্তরগুলি শিবকুমারের হাতে ছিল সেগুলি যাতে সিদ্দাপুত্র যতীন্দ্রকে দেওয়া হয় সেই দাবিও রাখেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। এই তালিকায় রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অনগ্রসর জাতি কল্যাণ, শিল্প বা জলসম্পদ দপ্তর। এদিকে শিবকুমারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করলেও হাই কমান্ডের তরফে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা করা হলেও সে প্রস্তাব খারিজ করেছেন সিদ্দা। জানিয়ে দিয়েছেন, কর্নাটক রাজনীতিতে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকতে চান তিনি। অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেও কর্নাটকে কংগ্রেসের রাশ নিজের হাতে রাখতেই আগ্রহী সিদ্দারামাইয়া।

    উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে বসেন সিদ্দা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবকুমারও। ওই বৈঠকেই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, উত্তরসূরি হিসাবে শিবকুমারের নাম অনুমোদন করেন। বৈঠক শেষে সিদ্দার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন শিবকুমার। এরপরই লোকভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন সিদ্দা। যদিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট। রাজ্যপালের সচিবের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন সিদ্দা। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকে সিদ্দা জানান, ”আমাকে রাজ্যসভার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি। আমি কর্নাটকের রাজনীতিতেই থাকতে চাই।”

    এদিকে আরও জানা যাচ্ছে, কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব সিদ্দা মন্ত্রিসভার পূর্তমন্ত্রী সতীশ জারকিহোলিকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল হাই কমান্ড। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে তিনি সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে কথা বলে তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন। পাশাপাশি ছেলের জন্য যে দপ্তর সিদ্দা প্রস্তাব করেছেন সেই জলসম্পদ, অনগ্রসর জাতি কল্যাণ দপ্তর এগুলি এতদিন সিদ্দা ঘনিষ্ঠ শিবরাজ সাঙ্গাপ্পার হাতে ছিল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)