‘হরপ্পার সিলে পশুপতি নয়, রয়েছে ইউরেশীয় দেবতা’, মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবি ঘিরে বিতর্ক
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
৪,৩০০ বছরের পুরনো মহেঞ্জোদারো সভ্যতার এক সিলমোহর নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। ইতিহাসের পাতায় যে সিলমোহরের ছবি সকলেই দেখেছে। মনে করা হয়, ওই সিলে যে দেবতার ছাপ রয়েছে তা পশুপতি অর্থাৎ শিবের। কিন্তু সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করলেন মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশ। তাঁর দাবি, ওই সিলে পশুপতি নয়, রয়েছে কোনও ইউরেশীয় দেবতা।
এক্স হ্যান্ডলে সংস্কৃতি মন্ত্রক ওই সিলকে ভারতের ‘অবিচ্ছিন্ন সভ্যতার ধারাবাহিকতা’-র অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেছে উপবিষ্ট মূর্তিটিকে শিব-পশুপতি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দাবিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অড্রে। তিনি মনে করেন, ওই মূর্তি শিব বা পশুপতির নয়। বরং সেটাকে ধরা যায় ইউরেশিয়ান পশুদের দেবতা। সম্ভবত আদি-এলামীয় শিল্পশৈলী থেকে গৃহীত।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রত্নবস্তুটির নাম ‘সিল ৪২০/ডিকে-জি’। যা ওই এলাকা থেকে আবিষ্কৃত এবং সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতার হাতেগোনা কয়েকটি সিলের অন্যতম। এতে যোগাসনে উপবিষ্ট এক মানবমূর্তির চিত্র অঙ্কিত রয়েছে। বহুকাল ধরেই যাকে পশুপতি বলে মনে করা হয়। কিন্তু অড্রের দাবি, ওই মূর্তি সম্ভবত শিবের নয়। তাঁর মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন ভারতীয় ইতিহাসবিদরা। সংস্কৃতি মন্ত্রকের দাবি, ওই মূর্তির যোগাবিষ্ট ভঙ্গি, শৈব প্রতীকবাদের চিহ্ন পরিষ্কার বুঝিয়ে দেয় ওই মূর্তি পশুপতিরই।
বিখ্যাত লেখক আমিশ ত্রিপাঠী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘পশুপতির সিলমোহরে একটি হাতি, একটি মহিষ এবং একটি গণ্ডার চিত্রিত রয়েছে। প্রাচীন এলামের কেন্দ্রস্থল ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে। হাতি, মহিষ এবং গণ্ডার— এসব প্রাণী প্রাচীন এলামের আদি বাসিন্দা নয়। প্রসঙ্গত, এগুলি ভারতেরই আদি প্রাণী। তাছাড়া, সিলমোহরের ওই আকৃতিটি একটি যোগাসনে উপবিষ্ট। তাহলে কি যোগশাস্ত্রও এলামীয় হয়ে গেল?’
ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক লাবণ্য ভেমশানিও প্রতিবাদ করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এলামীয় সিলটি পশুপতি বা আদি-শিব সিল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই দু’টি এক নয়। এমনকী এদের মধ্যে তুলনা করার মতো ১ শতাংশ সাদৃশ্যও নেই।’