বক্সায় আসছে আরও বাঘ! টাইগার রিজার্ভ খালি করতে সরানো হবে জয়ন্তীর জনবসতি
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
বাঘ আসবে বক্সায়। বাঘের ঘর থেকে সরে যাবে মানুষ। সরে যাবে বক্সা টাইগার রিজার্ভের পুরনো জনপদ ‘জয়ন্তী’। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে এর আগে বক্সা টাইগার রিজার্ভের কোর এলাকা থেকে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়া বস্তি এই বনগ্রামকে সরিয়ে কালচিনির ভাটপাড়া চা বাগানের কাছে নতুন গ্রাম ‘বনছায়া’তে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে। সেই বনছায়া গ্রামের পাশেই জয়ন্তীর বাসিন্দাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ বলেন, “গ্রাম সরিয়ে আনার কাজ প্রশাসনের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদেরকে বনছায়া গ্রামের পাশে নজরদারি রাখতে বলা হয়েছে। সেই কারণে আমরা ওই এলাকায় নজরদারি রাখছি। এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ হচ্ছে।”
উল্লেখ্য এর আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভুটিয়া বস্তি ও গাঙ্গুটিয়া এই দুই বন বস্তিকে জঙ্গল থেকে সরিয়ে জঙ্গলের বাইরে বের করে আনা হয়েছে। এর জন্য এই দুই বন বস্তির প্রত্যকে পরিবারকে ১৫ লক্ষ করে টাকা ও বসবাসের জন্য ৮ ডেসিমেল করে জমি দিয়েছে সরকার। ভাটপাড়া চাবাগানের কাছে ‘বন ছায়া’তে দুই বন বস্তির ২৪২ টি পরিবার বসবাস শুরু করেছে। এর পরে জয়ন্তীর বাসিন্দারাও তাদের বনগ্রাম সরানোর পক্ষে প্রায় এক বছর আগে লিখিত মতামত দিয়েছিল। জানা গিয়েছে, সে সময় জয়ন্তীতে মোট ৭১৭ জন ভোটার ছিল। তার মধ্যে ৬৯০ জন ভোটার এই অনুমতি পত্রে সই করেছেন। ফলে জয়ন্তী বন গ্রাম বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ম্যাপ থেকে মুছে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা ছিল মাত্র। সম্প্রতি বক্সা টাইগার রিজার্ভের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে বাইরে থেকে বাঘ এনে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক। রাজ্যে পালাবদলের পর দ্রুত এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় আবার জয়ন্তী বনগ্রামকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে ।
কালচিনি ব্লকের রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জয়ন্তী বনগ্রাম ব্রিটিশ আমলের একটি বনবস্তি। তাহলে কি এবার সত্যি সত্যি বাঘের ঘর থেকে সরে যাবে জয়ন্তী? বিষয়টি নিয়ে জয়ন্তী এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য লালন মাহাতো বলেন, দেখুন এখানে কাজ নেই। হাসপাতাল নেই। নেই সেভাবে পর্যটনও। জয়ন্তী নদীও একেবারে জয়ন্তী জনপদকে গিলে খাওয়ার মত অবস্থায় উঠে এসেছে। এই অবস্থায় সরকারি সাহায্য নিয়ে এখান থেকে আমাদের সরে গেলেই মনে হয় ভালো হবে। সেই কারণে আমরা অনেকে সরে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলাম।” বিষয়টি নিয়ে বনকর্তারা এখনই কিছু বলতে চাইছেন না।