বিএসএফের টহলের ফাঁকে ১০ মিনিট পেলেই কেল্লাফতে! সেই সুযোগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ঢুকে পড়ত বাংলাদেশিরা! দালালদের হাত ধরে এভাবেই এদেশে এসেছেন তাঁরা। হাকিমপুর চেকপোস্টের সামনে জড়ো হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের কথায় এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সীমান্ত পেরনোর জন্য অনুপ্রবেশকারীদের মাথাপিছু গুনতে হত মোটা টাকাও। সাত-আট হাজার থেকে ২০ হাজার টাকাও নেওয়া হত সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়ার জন্য। বাংলায় আর অনুপ্রবেশকারীদের জায়গা নেই, সেই কথা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারীদের ধরা ও ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট নীতি লাগু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
ওই ঘোষণার পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় বাড়ছে। শয়ে শয়ে মানুষ বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য এখানে ভিড় করেছেন! তাঁদের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নথিপত্র যাচাইয়ের পরই অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এমনই জানিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন ও বিএসএফ। এই বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে কথাও হবে বলে খবর। হাকিমপুরে ভিড় করা অনুপ্রবেশকারীদের থেকে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দালালদের মাধ্যমেই তাঁরা বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছেন বিভিন্ন সময়। কেউ পাঁচ বছর, কেউ সাত বছর আবার কেউ পরিবার নিয়ে ১০ বছর ধরে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় থাকছিলেন।
এক অনুপ্রবেশকারীদের কথায়, দালাল ধরেই সীমান্ত পেরিয়ে এদেশে আসা। এপাড়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি চলে বিএসএফের। সীমান্তে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় টহল দিয়ে পুরনো জায়গায় ফিরে আসতে জওয়ানদের ১০ মিনিট সময় পাওয়া যায় কিছু ক্ষেত্রে। সেই সময়টাই কাজে লাগাত দালালরা! দালাল ও অনুপ্রবেশকারীরা বিএসএফ টহলের ওই ১০ মিনিট সময় ঘাপটি মেরে থাকত! জওয়ানরা সরলেই ওই সামান্য সময়ের মধ্যেই সীমান্ত পার। কার্যত ছুটে জওয়ানদের নজরের আড়ালে চলে যাওয়া। কখনও জঙ্গল, বড় ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে থেকে ফের অপেক্ষা। সীমান্ত পার করানোর জন্য দালালরা মোটা টাকা নিত। কখনও ৭-৮ হাজার টাকা, কখনও আবার ২০ হাজার টাকাও দিতে হত দালালদের। এমনই জানিয়েছেন হাকিমপুরে জড়ো হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অনুপ্রবেশকারীর কথায়, “কখনও কখনও পার হওয়ার সুযোগের জন্য সারারাত অপেক্ষা করতে হয়। আবার কখনও কখনও ১০ মিনিটের মধ্যেই হয়ে যায়।”
বাংলায় আসার পর কেউ রাজমিস্ত্রির কাজ করেছেন। কেউ দিনমজুরের কাজে যুক্ত থেকেছেন। মহিলারাও বাড়িতে বাড়িতে ঠিকে কাজ, পরিচারিকার কাজে যুক্ত ছিলেন। অনুপ্রবেশকারীদের দাবি, এখানে আসার পর পরিচয়পত্রও তৈরি হয়েছে। মোটা টাকার বিনিময়ে ভোটার, আধার, রেশন, প্যান কার্ড করে দেওয়া হত। তৃণমূলের স্থানীয় লোকজন পরিচয়পত্র টাকার বিনিময়ে তৈরি করে দিত বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এক অনুপ্রবেশকারী বলেন, “আমি কেরালায় কাজ করতাম। এখন তারা ঘর ভাড়া দেওয়ার জন্যও ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড চাইছে, আর আমার কাছে সেইসব কাগজপত্র নেই।” এরপর তিনি সীমান্ত পারাপারের প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, “তাদের পাঁচ-ছয় জনের দল থাকে। রাতে তাঁরা দেখে কোন কোন এলাকায় বিএসএফ আছে আর কোনগুলোতে নেই। ফাঁক পেলেই তাঁরা লোক পাঠিয়ে দেয়। এটাই তাদের পদ্ধতি।”