তৃণমূল নেতাদের কোমরে দড়ি পুলিশের, মানবাধিকার প্রশ্নে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা
প্রতিদিন | ২৯ মে ২০২৬
সরকার বদলের পরেই পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপরেই একেবারে ‘দাবাং’ মুডে বাংলার পুলিশ। একদিকে যেমন সংক্রমণের মতো বেড়েই চলেছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেপ্তারি। সেই সঙ্গেই যেন ট্রেন্ডে পরণত হয়েছে তৃণমূলের ‘বাহুবলী’দের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় প্রদর্শনী। আর এই ঘটনার জল গড়াল আদালত পর্যন্ত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা।
শুরুটা হয়েছিল উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী ধৃত আকাশ সিংকে দিয়ে। তাঁর মাথা ন্যাড়া অবস্থায়, অন্তর্বাস পরিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘুরিয়েছিল পুলিশ। সেই ছবি-ভিডিও সমাজমাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। একই কায়দায় শিবপুরের তৃণমূল নেতা ধৃত শামিম আহমেদকেও প্রকাশ্য রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। শুধু হাওড়াতেই নয়, সাঁকরাইলেও একইছবি দেখা গিয়েছিল। তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত সাহীন মোল্লা ওরফে সানি-কে সোমবার পুলিশ কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরায় পুলিশ। অন্যদিকে বীজপুরের তৃণমূল যুব নেতা বনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্যান্ডো গেঞ্জি, বারমুডা পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হয় গোটা এলাকা। কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে বৃহস্পতিবারই পুলিশের জালে ধরা পড়েন কালচিনি ব্লকের মাঝের ডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা মানস রায়। শুক্রবার ধৃত নেতার কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরায় পুলিশ। অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো নিয়ে এবার কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। আগামী ৫ জুন আদালতে মামলার শুনানি।
রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরেই ‘ভয় আউট, ভরসা ইনে’র বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি ইস্যুতে জিরো টলারেন্সের বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল জমানায় যাঁদের ভয়ে পুলিশ ভয়ে সিঁটিয়ে থাকত, বিজেপি সরকারের আমলে পুলিশের এহেন মুড দেখে অনেকেই উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী রাজে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে অভিযু্ক্তদের মানবাধিকার প্রসঙ্গে আইনের রায় কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
Link to this news (প্রতিদিন)