• শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কিছু? নন্দীগ্রামে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৮ দোকান
    News18 বাংলা | ২৯ মে ২০২৬
  • : নন্দীগ্রামের তেখালী বাজারে আগুনে ভস্মীভূত প্রায় আটটি দোকান। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি ব্যবসায়ীদের। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের, নন্দীগ্রাম থানা এলাকার, তেখালী ফাঁড়ি সংলগ্ন তেখালী বাজারে হঠাৎই বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন লেগে যায়। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকার লোকজন ছুটে আসেন।অনেক চেষ্টার পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে প্রায় আটটি দোকান আগুনের লেলিহান শিখায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই রাতের বেলা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। গভীর রাতে যখন চারদিক নিস্তব্ধ, ঠিক সেই সময় আচমকাই তেখালী বাজারের একটি দোকানে আগুন জ্বলতে দেখেন কয়েকজন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। সারিবদ্ধভাবে থাকা কাঠের ও পাকা দোকান ঘর হওয়ায় আগুন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গ্রাস করে নেয় গোটা এলাকাকে।

    বাজারের দিক থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখে আশেপাশের বাসিন্দারা চিৎকার শুরু করেন। ঘটনা জানাজানি হতেই গভীর রাতেই এলাকার মানুষজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজস্ব উদ্যোগে বালতি বালতি জল আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান। ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘক্ষণের আপ্রাণ এবং যৌথ প্রচেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে আগুন যখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলির ভিতর থাকা সমস্ত আসবাবপত্র, নগদ টাকা এবং মজুত রাখা মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে একবারে ছাই হয়ে গিয়েছে। বিধ্বংসী এই আগুনের গ্রাসে চলে গেছে প্রায় আটটি দোকান।

    প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোনও একটি দোকানের শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক উত্তম কুমার মণ্ডল জানান, “প্রতিদিনের মতো রাত ১০টার সময় দোকান লাগিয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। মধ্যরাতে খবর পাই বাজারে আগুন লেগেছে। দ্রুত এসে দেখি দাউদাউ করে জ্বলছে সবকিছু। পুড়ে ছাই হয়েছে আমার দোকান। কীভাবে আগুন লাগল জানি না।” তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর না মিললেও, রুটি-রুজি হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁরা এখন সরকারি সাহায্যের আশায় দিন গুনছেন।
  • Link to this news (News18 বাংলা)