পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ সরকারিল চাকরিতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো থেকে শুরু করে রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান যোগজনার মতো প্রকল্পের বাস্তবায়ন৷ এই সবের পাশাপাশি, এবার রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের উদ্যোগী হচ্ছে রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পরিচালনা শুরু করার এক মাসের মধ্যেই রাজ্যে এসেছে নতুন বিনিয়োগের খবর। জানা গিয়েছে, বাংলায় বড়সড় বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে আমুল (Amul)। বাংলায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার এ বিষয়ে রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘‘তৃণমূলের অত্যাচারে সব পালিয়ে গেছে৷ আমার কাছে বিদেশ থেকে কল আসছে। হরিণঘাটায় বিশাল ফার্ম, বিশাল জায়গা৷ রেলের বাংলো থেকে পুলিশ থাকে। হরিণঘাটায় দুরবস্থা দেখলাম৷ লোক ঢোকান লুটপাট হয়েছে৷ কেষ্ট বাবু এগ্রিকালচার ও মার্কেটিং-এর সভাপতি বা চেয়ারম্যান ছিলেন কোনও দিন আসেনি৷ সব আমরা ঠিক করব। বিশাল সম্ভাবনা আছে৷’’
দিলীপের কথায়, ‘‘দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার কাছে দুবাই, লন্ডন, সিঙ্গাপুর থেকে ফোন আসছে। দিল্লি, মুম্বই থেকেও অনেকে ফোন করছে। আমি তাঁদের বলেছি, আমরা সরকারটা একটু ঠিক করে নিই। আপনাদের কাজের জন্য অনুকূলতা তৈরি করি। যাতে এখানে এসে আর কোনও ধাক্কা খেতে না হয়, এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি করি, তারপর আপনারা আসবেন।”
অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়ের মন্তব্য, ‘‘আমুলের পক্ষে, এটা বাংলার শিল্পায়নের পক্ষে দারুণ খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে হাজার হাজার শিল্পে তালা পড়েছে, বাংলা ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে যুবক য়ুবতীরা বাধ্য হয়েছে, বেড়েছে পরিযায়ী শ্রমিক৷ এবার বাংলায় শিল্পে নবজাগরণ হবে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে প্রচুর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হবে৷ অনেক বিনিয়োগকারীরাই এখন বাংলায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ অনেকেই যোগাযোগ করছে৷ বিজেপি সরকারি তাদের উপযুক্ত শিল্পের পরিবেশ দেবে বাংলায়৷’’
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমুল। একইসঙ্গে লেখেন, ‘তৈরি হবে কর্মসংস্থান, শক্তিশালী হবে দুগ্ধ পরিকাঠামো। বাংলা এগোচ্ছে উন্নয়ন আর আত্মনির্ভরতার পথে।’ তারপর থেকেই সেই পোস্ট ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিজেপির তরফে আরও দাবি, ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্ট গড়বে আমুল। এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মালিকানাধীন ডেয়ারি প্ল্যান্ট গড়তে চলেছে আমূল। এই বিনিয়োগের ফলে প্রচুর কর্মসংস্থান তৈরি হবে রাজ্যে। যদিও আমুলের বিনিয়োগ নিয়ে এখনও রাজ্য সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
শুক্রবার সকালেও প্রাতঃভ্রমণকালে রীতিমতো দাবাং মেজাজে দেখা যায় দিলীপ ঘোষকে। মন্ত্রী হয়েছেন তবে নিজের স্টাইলের এক ইঞ্চিও কমাননি তিনি। ইকো পার্ক থেকে বেরিয়ে চালালেন তার একজন সমর্থকের দামী বাইক৷
বিজেপি সূত্রের খবর, রাজ্যে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় শিল্পতালুক তৈরি করতে কেন্দ্রের সহযোগিতা চাইতে পারে রাজ্য। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই রাজ্যের কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই জায়গাগুলিতে কী কী শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে,তার খসড়াও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া চলছে৷ তালিকায় মোট ৫ জায়গার উল্লেখ করা থাকতে পারে।