: চিকিৎসকের কাজ শুধু রোগ সারানোতেই সীমাবদ্ধ নয়, মানবিকতার স্পর্শে একজন মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো ফিরিয়ে দেওয়াও যে তাঁদের দায়িত্বের অংশ, তারই এক অনন্য উদাহরণ তৈরি হল পুরুলিয়ার হাতোয়াড়ায়। বলরামপুরের বিরামডি আমট্যাঁড় এলাকার বাসিন্দা ৫২ বছর বয়সী মিনি মান্ডি দীর্ঘদিন ধরে বিরল ও জটিল ‘পেরিয়াম্পুলারি ক্যানসারে’-এ ভুগছিলেন। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াই ছিল পরিবারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অবশেষে গত ১৩ মে, ২০ ইউনিট ২ -এর জেনারেল সার্জারির নোডাল অফিসার তথা বিশিষ্ট শল্য চিকিৎসক ডাঃ পবন মণ্ডলের নেতৃত্বে তাঁর শরীরে সফলভাবে সম্পন্ন হয় অত্যন্ত জটিল ও প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী ‘হুইপলস অপারেশন’।
চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই অস্ত্রোপচারে রোগীর প্যানক্রিয়াসের ৫০ শতাংশ, সম্পূর্ণ ডুওডেনাম, পিত্তথলি, পিত্তনালী, পাকস্থলীর একটি অংশ এবং আক্রান্ত লসিকা গ্রন্থি অপসারণ করা হয়। পরে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দক্ষতার সঙ্গে শরীরের অঙ্গগুলিকে পুনরায় সংযুক্ত করা হয়। গোটা অপারেশন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন অ্যানাস্থেশিয়া টিমের ডাঃ অনামিত্র, ডাঃ সোমা, ডাঃ অজিত ও ডাঃ ঋষভ। পাশাপাশি সিস্টার সুমনা ও লতিকার সহায়তায় অস্ত্রোপচারে অংশ নেন ডাঃ মনিরুল ইসলাম ও ডাঃ কার্তিক এস।
দীর্ঘ ও জটিল এই অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন মিনি মান্ডি। তবে চিকিৎসার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিকতার যে ছবি সামনে এসেছে, তা রীতিমতো আবেগঘন। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার দিন রোগীর পরিবারের আর্থিক অসহায়তার কথা জানতে পেরে চিকিৎসক ডাঃ পবন মণ্ডল নিজেই নিজের গাড়িতে করে তাঁকে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দেন রোগীকে। এ বিষয়ে চিকিৎসক পবন মণ্ডল বলেন, “শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এই রোগী আমাদের কাছে এসেছিল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারা যায় তার ক্যানসার রয়েছে। জটিল অস্ত্রোপ্রচারের মধ্যে দিয়ে রোগীর চিকিৎসা করা হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। তাকে নিজে উদ্যোগে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছি।”
চিকিৎসকের এই বিরল মানবিক আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রোগীর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের কথায়, “ডাক্তারবাবু শুধু নতুন জীবনই দেননি, মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছেন।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে প্রশংসার ঢেউ উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সময়ে যখন চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে, তখন ডাঃ পবন মণ্ডলের এই উদ্যোগ চিকিৎসক-পেশার মানবিক মুখকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল।