• রায় ঘোষণায় দেরি নয়, জামিন মামলার নিষ্পত্তি শুনানির দিনই, হাইকোর্টগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে দেশের সমস্ত হাইকোর্টকে বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলার রায় ঘোষণায় দেরি হওয়ায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে বেশ কয়েকটি নির্দেশও দিল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ।

    শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এ বার থেকে হাইকোর্টকে জামিনের আবেদনের নিষ্পত্তি শুনানির দিনই করে ফেলতে হবে। যদিও কোনও কারণে দেরি হয়ও, তা হলেও সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে হাইকোর্টকে। জামিন বা সাজা স্থগিতের নির্দেশ জারি হলে, তা অবিলম্বে জেল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, যাতে বন্দিরা ওই দিনই বা পরের দিনের মধ্যে মুক্তি পেতে পারেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, জামিন, উচ্ছেদ, কোনও নির্মাণ ভাঙা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশ দিতে হবে।

    সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কোনও মামলায় দিনের পর দিন রায় স্থগিত রাখা যাবে না। শুনানি শেষে কোনও মামলার রায়দান স্থগিত রাখা হলে তা সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে ঘোষণা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ যদি কার্যকর না হয়, যদি কোনও মামলায় রায় তিন মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ঘোষণা না হয়, তা হলে পরবর্তী ২ সপ্তাহের মধ্যে তা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নজরে আনতে হবে। প্রধান বিচারপতির নজরে আসার ২ সপ্তাহ পরেও যদি মামলার নিষ্পত্তি না হয়, তবে মামলাটি অন্য কোনও বেঞ্চে নতুন করে শুনানির জন্য স্থানান্তরিত করতে পারেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। একই সঙ্গে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, মামলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে রায়দানের তারিখটি জানিয়ে দিতে হবে।

    এজলাসে রায় ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে আদালত কেবল রায়ের মূল অংশ ঘোষণা করতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় ৭ দিনের মধ্যে (ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে) আপলোড করতে হবে ওয়েবসাইটে। যতক্ষণ না মূল রায় আপলোড হচ্ছে, তত ক্ষণ ওয়েবসাইটে লেখা থাকবে—‘detailed reasons are awaited’। রায় অনলাইনে আপলোড হওয়া মাত্রই ইমেল এবং নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তা জানিয়ে দিতে হবে। রায়ের অনুমোদিত প্রতিলিপিতে এখন থেকে স্পষ্ট করে ৩টি তারিখ উল্লেখ করতে হবে— ১) রায়দান স্থগিতের। ২) রায়ের মূল অংশ ঘোষণার তারিখ। ৩) বিস্তারিত রায় ওয়েবসাইটে আপলোড করার তারিখ। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রায়ের মূল অংশ ঘোষণার ১ মাসের মধ্যে যদি পূর্ণাঙ্গ রায় আপলোড না করা হয়, তা হলে মামলা স্থানান্তরের দাবি জানানো যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)