• লোকসভায় কি বিপাকে পড়বেন কল্যাণ? কাকলির অভিযোগ প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠাতে পারেন স্পিকার
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মৌখিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরই সতীর্থ সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। স্পিকারের কাছে কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন তিনি। একই দলের দুই সাংসদের মধ্যে বিবাদ নতুন নয়। অতীতেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু এক জন আর এক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে চেয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হচ্ছেন, এমন ঘটনা শেষ কবে ঘটেছে, রাজনৈতিক মহলের তা অনেকেই মনে করতে পারছেন না। পাশাপাশিই এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করা হয়, সংসদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াই বা কী, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

    কাকলির অভিযোগ, লোকসভার ভিতরে তাঁকে বার বার মৌখিক হেনস্থা করেছেন কল্যাণ। শুধু তা-ই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে নারীবিদ্বেষের অভিযোগও তুলেছেন কাকলি। চিঠিতে তাঁর দাবি, লোকসভার মহিলা সদস্যদের প্রতি কল্যাণের নারীবিদ্বেষী মনোভাব রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কল্যাণের শাস্তি পাওয়া উচিত বলে মনে করেন কাকলি। সংসদের খুঁটিনাটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহলের মত, এ রকম অভিযোগ জমা পড়লে স্পিকার যদি মনে করেন বিষয়টি গুরুতর, তাহলে তিনি তা প্রিভিলেজ কমিটি বা স্বাধিকার কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। এর পরে সেই কমিটিই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। নিজেদের মতো করে ঘটনার অনুসন্ধান করবে। ঘটনাচক্রে, কল্যাণ নিজেই এই প্রিভিলেজ কমিটির সদস্য।

    রাজনৈতিক মহলের মত, নিয়ম অনুযায়ী:

    • প্রিভিলেজ কমিটিতে দু’পক্ষকেই ডেকে পাঠানো হবে।

    • তাঁদের বয়ান সংগ্রহ করা হবে।

    • তার ভিত্তিতে প্রিভিলেজ কমিটি রিপোর্ট প্রস্তুত করবে।

    • অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তার সুপারিশ করবে।

    • স্পিকারই সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ করবেন।

    এ ক্ষেত্রে প্রিভিলেজ় কমিটি অভিযুক্ত সাংসদকে সাসপেন্ড বা বরখাস্ত করারও সুপারিশ করতে পারে।

    কাকলি স্পিকারকে চিঠি লেখার পরেই এই সময় অনলাইন কল্যাণের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কল্যাণ জানিয়েছেন, তিনিও কাকলির বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানাবেন। এ ক্ষেত্রে নারদ মামলায় কথা স্পিকারের কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা কোন সময়ের? যখন খারাপ আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উনি, তখন কেন অভিযোগ জানাননি? কাকলি ঘোষদস্তিদারের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে। তাই এ সব বলা হচ্ছে। আমি লোকসভার স্পিকারের কাছে কাকলির নামে অভিযোগ জানাব। নারদা মামলায় যে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেটার কী হবে? সেই মামলায় তো কাকলি ঘোষদস্তিদারও জড়িত।’

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলে কয়েক দিন ধরেই ‘বেসুরো’ কাকলি। রাজ্যে পালাবদলের পরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে সাংসদদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকেই লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। ঘটনাচক্রে, তার পরেই সমাজমাধ্যমে কাকলি লেখেন, ‘আনুগত্যের পুরস্কার পেলাম...।‘ এর পরে দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রীর পদ থেকে তাঁর ইস্তফা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং তার অব্যবহিত পরে দলের সমস্ত পদ থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানো নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই নানা জল্পনা-গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। সেই আবহেই কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন কাকলি।

    রাজনৈতিক মহলের মত, এই পরিস্থিতিতে কল্যাণের তরফে কাকলির বিরুদ্ধে পাল্টা নারদা মামলার প্রসঙ্গ টেনে কোনও অভিযোগ দায়ের করলে, সেটিও স্পিকার চাইলে প্রিভিলেজ কমিটির কাছে পাঠাতে পারেন। তবে কত দিনে এই সব অভিযোগের ফয়সালা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ এই মুহূর্তে আরও বেশ কয়েকটি বিষয় অনুসন্ধান করছে এই কমিটি। সে সবের রিপোর্ট এখনও স্পিকারের কাছে জমা পড়েনি বলেই সূত্রের খবর।

    সাধারণত নতুন লোকসভা গঠনের কিছু দিনের মধ্যেই প্রিভিলেজ কমিটি গঠন হয়ে যায়। কিন্তু ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচনের পরে গত দু’বছর ধরে কোনও প্রিভিলেজ কমিটি ছিল না। তবে সম্প্রতি সেই কমিটি গড়েছেন স্পিকার। মোট ১৫ জনের কমিটিতে চেয়ারম্যান রবিশঙ্কর প্রসাদ-সহ আট জন বিজেপি তথা এনডিএ-র সাংসদ। আর বিরোধী শিবিরের যাঁরা উপস্থিত, তাঁদের মধ্যে কল্যাণ ছাড়া রয়েছেন মণীশ তিওয়ারি, মাণিকম টেগোর। সূত্রের খবর, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূলের আর এক সাংসদ কীর্তি আজ়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেই পাঠানো হয়েছে প্রিভিলেজ কমিটির কাছে। এখন সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, বাজেট অধিবেশনের সময়ে রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে আমেরিকার চাপের মুখে বাণিজ্য চুক্তি করার অভিযোগ তুলেছিলেন। তার পরেই বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে রাহুলের সাংসদ পদ খারিজের দাবি তুলে মৌলিক প্রস্তাব বা ‘সাবস্ট্যানটিভ মোশন’-এর নোটিস জমা দিয়েছিলেন। তার আগে ডিসেম্বরে শীতকালীন অধিবেশনের সময় বিজেপি তৃণমূলের সাংসদ কীর্তির বিরুদ্ধে লোকসভায় বসে ই-সিগারেটে ধূমপান করার অভিযোগ তুলেছিল। বিজেপি সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করে, বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ধূমপান করছিলেন। ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করার জন্য কেন্দ্রীয় ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতেও পাঠানো হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)