• ‘UPSC-র কাছ থেকে শেখা উচিত NTA-র...’, NEET-UG প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে চরম ভর্ৎসনার মুখে কেন্দ্র
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় এ বার সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) এবং কেন্দ্র। শুক্রবার শুনানিতে শীর্ষ আদালত NEET পরীক্ষায় বার বার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে প্রবল তিরস্কার করে কেন্দ্র ও NTA-কে। অন্যদিকে, আদালতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এ বার গোটা পরিস্থিতি এবং পরীক্ষার সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এদিন NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিল সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হয়। আদালতের কথায়, ‘দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী স্নাতক পর্যায়ের মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য এই পরীক্ষায় বসেন। এই NEET পরীক্ষা হলো একটি যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা। তাই সেই পরীক্ষায় এ ভাবে বার বার প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনায় হতাশ তরুণ সমাজ। এ ভাবে তাঁদের হতাশ করা যায় না।’

    শীর্ষ আদালত এ দিন নিট (NEET) পরীক্ষা আয়োজনকে UPSC বা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করে। ডিভিশন বেঞ্চ ভর্ৎসনা করে বলে, ‘UPSC-র পরীক্ষায় কখনও প্রশ্নফাঁস হয় না, NTA-র তাদের থেকে শেখা উচিত।’ আদালত NTA-র ‘অ্যাড-হক’ বা অস্থায়ী কাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, ‘ভারতে অনেক প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী না করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা থেকেই যাবে।’ একই সঙ্গে কেন্দ্রকে হলফনামা জমা দিয়ে জানাতে বলা হয়েছে, কী ভাবে NTA-কে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। শুনানির সময়ে বিচারপতি নরসিমা বলেন, ‘আসল সমস্যা থামবে না যতক্ষণ না নির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব ভাগ করা হচ্ছে। সমস্যা হলো, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই অপরিকল্পিত। এটি দেশের সর্বত্রই একটি বাস্তব চিত্র। সক্ষমতা কোনও ব্যক্তির নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের। কোনও ব্যক্তি কোনও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে, তাকে চিহ্নিত না করলে এই সমস্যা চলতেই থাকবে।’ কড়া ভাষায় NTA-র সমালোচনা করে আদালতের মন্তব্য, ‘দুঃখজনকভাবে NTA অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি।’

    এই মামলায় আদালত কেন্দ্র সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, NTA-তে কী ভাবে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি অফ কন্টিনিউটি’ বা ধারাবাহিক দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করা যায়, তা বিস্তারিতভাবে হলফনামায় জানাতে হবে। বিশেষজ্ঞ কর্মী নিয়োগ, স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামো এবং পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থার রূপরেখাও তাতে উল্লেখ করতে হবে।

    শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ২০২৪ সালের NEET বিতর্কের পরে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং কমিটির প্রধান ডঃ কে রাধাকৃষ্ণণ। আদালত তাঁর কাছে জানতে চায়, আগের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এ বছরের প্রশ্নফাঁস কীভাবে ঘটল। বিচারপতি নরসিমা বলেন, ‘যদি এত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি থাকার পরও এই ঘটনা ঘটে, তাহলে হয় সুপারিশে সমস্যা ছিল, নয়তো তার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি।’

    জবাবে রাধাকৃষ্ণণ জানান, কমিটি ৩৫টি দীর্ঘমেয়াদি এবং প্রায় ৬০টি স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের সুপারিশ করেছিল, যার অধিকাংশই কার্যকর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, NEET-PG ২০২৫ তুলনামূলকভাবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এ বছরের NEET-UG-তে যে নতুন ধরনের দুর্বলতা সামনে এসেছে, তা মোকাবিলায় আগামী রি-টেস্টের আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্র ছাপানো থেকে পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছনো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। IIT-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে নিরাপত্তা জোরদারের কাজে। সেনাকেও নিরাপত্তা বলে যুক্ত করার কথা ভাবনাচিন্তা করছে শিক্ষামন্ত্রক।

    এদিকে কেন্দ্র আদালতে দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগতভাবে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। সরকারের বক্তব্য, দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের সঙ্গে এই পরীক্ষা জড়িত, তাই কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

  • Link to this news (এই সময়)