• শৌচাগারে আধ ঘণ্টা পড়ে থেকে মৃত্যু রোগীর, দেহ আটকে বিক্ষোভ শান্তিপুরের হাসপাতালে
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • গাফিলতির অভিযোগে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, ওই হাসপাতালের বাথরুমে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে পড়েছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালের বেডে মারা যান তিনি। যুবকের মৃতদেহ আটকে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে পরে ঘটনাস্থলে গিয়েছে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

    মৃত রোগীর নাম রাজকুমার ঘোষ (৩৬)। তিনি শান্তিপুর থানা এলাকার কাশ্যপ পাড়ার বাসিন্দা। পরিবার জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে সাইকেলে চেপে নিজের গন্তব্যে যাওয়ার সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রাজকুমার। সাইকেল থেকে পড়েও গিয়েছিলেন তিনি। এই খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে যান রাজকুমারের মা। পরে তিনিই ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে রাজকুমারকে জেনারেল বেডে রাখা হয়েছিল প্রথমে। যুবক মাকে জানান, তিনি শৌচাগারে যেতে চান। কিন্তু তাঁর ওঠার ক্ষমতা নেই। অভিযোগ, হাসপাতাল কর্মীরাও জানান, তাঁদের পক্ষে সেই মুহূর্তে রাজকুমারকে শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে বাধ্য হয়েই রাজকুমারের মা এবং দিদিই তাঁকে ধরাধরি করে শৌচাগারে নিয়ে যান। কিছু ক্ষণ পরে সেখান জ্ঞান হারান যুবক।

    পরিবারের অভিযোগ, তারা অনেক ডাকাডাকি করেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কোনও নার্স বা কর্মী এগিয়ে আসেননি। রাজকুমারকে তাঁর বেডে নিয়ে যাননি। শেষে বাধ্য হয়েই পরিবারের লোকেরা তাঁকে বেডে নিয়ে যান। তার কিছু ক্ষণ পরেই রাজকুমারকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং কর্মীদের শাস্তির দাবিও জানিয়েছে তারা। হাসপাতালের সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। মৃতের মা বলেন, ‘বাথরুমে গিয়ে পড়ে গিয়েছিল ছেলে। এতবার ডাকলাম। কেউ এসে ধরল না। চিকিৎসার গাফিলতির জন্যই আমার ছেলে মরল!’

    পরিবারের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সুপার তারক বর্মন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত হবে।’ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শান্তিপুরের বিজেপি বিধায়ক স্বপনকুমার দাস। তিনি পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন।

  • Link to this news (এই সময়)