• অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ করাতে জেলায় জেলায় চালু হেল্প ডেস্ক
    এই সময় | ২৯ মে ২০২৬
  • অন্নপূর্ণা যোজনায় কী ভাবে ফর্ম ফিল আপ করতে হবে? সেই বিষয়ে যাতে মহিলারা কোনও সমস্যায় না পড়েন, তার জন্য সরকারের তরফে চালু করা হলো হেল্প ডেস্ক। জেলায় জেলায় বিভিন্ন ব্লকে চালু হয়েছে এই পরিষেবা। গত ২৭ মে ১২ পাতার অন্নপূর্ণা যোজনা ফর্ম প্রকাশ করা হয়েছে সরকারের তরফে। বলা হয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন দু’ভাবেই ফর্ম ফিল আপ করা যাবে। কিন্তু তারপর থেকে কী ভাবে ফর্ম ভরতে হবে, কী কী তথ্য দেওয়া হবে, সেই নিয়ে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। এই কারণেই জেলায় জেলায় শুরু হলো হেল্প ডেস্ক।

    সূত্রের খবর, ফর্ম ফিল আপ নিয়ে অনেক মহিলার একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। এই কারণে শুক্রবার হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকে হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে মহিলাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মহিষাদল বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুভাষচন্দ্র পাঁজা এবং হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের আধিকারিকরা। এ দিন বিধায়ক ফর্মের ফটোকপি বা প্রতিলিপি নিয়ে মহিলাদের বুঝিয়ে দেন কী ভাবে ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। বিধায়কের সাহায্য পেয়ে খুশি মহিলারা।

    হলদিয়া শুধু নয়,মেমারিতেও তৈরি হয়েছে হেল্প ডেস্ক। সেখানে ক্যাম্প করে বিতরণ করা হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। মেমারির বিধায়ক মানব গুহর উপস্থিতিতে ফর্ম বিতরণ শুরু হয়। পাশাপাশি যাঁদের ফর্ম ফিলাপ করতে অসুবিধে হচ্ছে, তাঁদের ক্যাম্পেই ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে ব্লক প্রশাসনের তরফে। বিধায়ক জানান,মহিলাদের হয়রানি এড়াতেই এই উদ্যোগ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম রয়েছে। তাই প্রকৃত প্রাপকরা যাতে এই টাকা পান তা নিশ্চিত করতেই এই প্রয়াস।

    বাঁকুড়ার ছাতনাতেও শুরু হয়েছে এই ফর্ম বিলি। ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, বিডিও সৌরভ ধল্ল-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা ছাতনা ব্লকের ঘোষেরগ্রাম অঞ্চলের এনারি কুশবনা গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি করেন এবং সাধারণ মানুষকে ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করেন।

    মহিলারা যাতে সহজেই এই ফর্ম সহজেই ফিল আপ করতে পারেন, সেই জন্য নারী-শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, যাঁদের জন্য এই প্রকল্প, তাঁরা চাইলে অবশ্যই এই ফর্ম আরও সহজ করা হবে। তিনি আরও জানান ‘বাংলার মা-বোনেদের যদি অসুবিধা হয়, তাঁরা যদি চান, তা হলে ফর্মের সরলীকরণ হবে। এই প্রকল্প তো আসলে তাঁদের জন্যই।’ বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আশ্বাসও দেন অগ্নিমিত্রা পাল।

    উল্লেখ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে অনেক বেনোজল মিশে থাকার অভিযোগ উঠেছিল। তাই সেগুলিকে বাদ দিয়ে যোগ্য ও আর্থিক ভাবে দুর্বল মহিলাদের সাহায্য করতেই আবার নতুন করে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ভরতে হবে মহিলাদের, এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যে ফর্ম দেওয়া হচ্ছে, সেখানে আবেদনকারীর পরিবার সম্পর্কেও বেশ কিছু তথ্য জানতে জানাতে হবে। সেগুলিকেও নির্ভুল ভাবে লিখতে হবে ফর্মে। তবে যতদিন এই প্রক্রিয়া চলবে, ততদিন যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁরা সেই অনুদান পাবেন, এমনটাই জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

    তথ্য সহায়তা: রঞ্জন মাইতি, গোপাল সোনকার, মনোজ কর্মকার

  • Link to this news (এই সময়)