অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম দেখে চোখ কপালে উঠেছে অনেকের। এত তথ্য চাওয়া হচ্ছে কেন? প্রশ্ন অধিকাংশের মনেই। শুধু আবেদনকারী নয়, তাঁর গোটা পরিবারের খুঁটিনাটি চাওয়া হয়েছে ফর্মে। তবে শুক্রবার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএন শাসমল হলের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলে দিলেন, ‘আসলে ফিলআপ করতে হবে মাত্র তিনটি পাতা।’
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রথম দিকে ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। সরকার গঠনের পরে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র উপভোক্তারা এ বার দ্বিগুণ ভাতা পাবেন। সেই মতো রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম প্রকাশ করেছে বুধবার। সেই ফর্ম প্রিন্ট করানোর জন্য সাইবার ক্যাফেতে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। অনেকে আবার ফর্ম পেতে ভিড় করছেন স্থানীয় সরকারি অফিসে। তবে এ সব ছাপিয়ে এখন একটাই আলোচনা, এত নথি কী ভাবে জোগাড় হবে? ১২ পৃষ্ঠার ফর্মে চাওয়া হয়েছে বিস্তর তথ্য। সেই ফর্ম কী ভাবে পূরণ করা হবে, তা নিয়েও অনেকে চিন্তায়।
সুকান্ত অবশ্য এ দিন সাফ জানিয়ে দিলেন, মাত্র তিন পাতার ফর্মই পূরণ করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘ফর্ম দেখলেই মানুষ সবটা বুঝতে পারবে, বিভ্রান্তির কোনও জায়গাই নেই।’ সুকান্তর স্পষ্ট কথা, ‘ফর্মে তিন-চার পাতা এমন আছে, যেখানে শুধু টিক মারতে হবে। আবার তিন-চার পাতা শুধু সিএএ-তে যাঁরা আবেদন করেছেন তাঁদের জন্য। আর তিন পাতা আছে, যেখানে শুধু তথ্য দিয়ে ফিলআপ করতে হবে।’ সুকান্তর দাবি, ‘স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এমনটা করা হয়েছে।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ‘ভালো তৃণমূল’ মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন সুকান্ত। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তৃণমূলের ছোট, মেজ, বড় নেতাদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। এমন পরিস্থিতিতে অন্য দল থেকে যোগদান বন্ধ রাখার নির্দেশও দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে শমীক ‘ভালো তৃণমূল’ তত্ত্ব নিয়ে এসেছেন। তিনি বলছেন, ‘তৃণমূলের যে সব নেতারা চুরি-দুর্নীতিতে যুক্ত, তাঁদের জন্য দরজা বন্ধ। কিন্তু তৃণমূলেও কিছু ভালো নেতা রয়েছেন, যাঁরা পরিস্থিতির চাপে মুখ খুলতে পারেনি অথবা মুখ খুলে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁরা বিজেপির দরজায় কড়া নাড়লে ভেবে দেখব।’
এর পরেই ‘ভালো তৃণমূল’ তত্ত্ব নিয়ে বিস্তারিত বলেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, ‘ভালো তৃণমূল হলো, সোনার পাথরবাটি। খুঁজেই পাবেন না, তো নেবেন কোথা থেকে! কাঁঠালের আমসত্ত্ব কখনও খেয়েছেন? হয় না তো খাবেন কী করে!’