পাহাড়ের উন্নয়নের দিকে নজর, একাধিক পদক্ষেপ শুভেন্দুর
আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে নবান্নে বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং নবনির্বাচিত বিধায়করা। এছাড়াও ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিশয় এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। চা-বাগান, পুরসভা ইত্যাদি নানা বিষয়ে আলোচনা হয় শুক্রবারের বৈঠকে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে অন্যতম, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ। তাঁর দাবি, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর।
এদিনের বৈঠকের পরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তিনি জানান, পাহাড়ের তিন পুরসভায় মহকুমাশাসকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং বাদে পাহাড়ের তিন পুরসভায় প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিক।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “জিটিএ প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীন বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে।” তাঁর অভিযোগ, “ গত অর্থবর্ষে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল জিটিএ-কে। চলতি অর্থবর্ষে ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা তাঁরা কোথায় খরচ করবেন সেই অ্যাকশন প্ল্যান জমা দিতে পারেননি। কোনও কাজ করতে পারেনি জিটিএ বা করা ইচ্ছে ছিল না।”
শুভেন্দু এদিন বলেন, “উত্তরবঙ্গে ২৫টি বড় চা বাগান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০২১ সালের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চা শ্রমিকদের জন্য ১০০০ কোটির প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেয়নি। তাই শ্রমিকরা সুবিধা পাননি। আগের সরকারের উদাসীনতার জন্য শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়েছেন। অসমের মতো এখানে চা শ্রমিকদের প্রকল্প চালু করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্র ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করতে রাজি আছি এই অর্থবর্ষে। এই টাকা দিয়ে পাহাড় থেকে তরাই পর্যন্ত চা শ্রমিকদের সাহায্য করা হবে।”
গত বছর দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের যে ১০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বা যাঁরা গৃহহীন হয়েছিলেন, সেগুলির জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু আগের সরকার টাকা বরাদ্দ করেনি। সাংসদ রাজু বিস্তা নিজ উদ্যোগে ১০টি বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। বাকি ৯০টি বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় জড়িত ছিল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ আদায় করেছিল। শুভেন্দু এদিন জানিয়েছেন, এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার। এর ফলে সিবিআইয়ের সামনে আর কোনও বাধা রইল না তদন্ত করার জন্য।
এছাড়াও এদিনের বৈঠকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বেশ কিছু দুর্নীতির কথা তুলে ধরা হয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন সেই সব দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাত দিনের মধ্যে তার রিপোর্ট চেয়েছেন।
এদিনের বৈঠকে পাহাড়ের চারটি পুরসভার উন্নয়ন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ পরিষেবা এবং পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, বর্ষার আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। আগের সরকারের বিরুদ্ধে পাহাড়কে অবহেলার অভিযোগ করেছেন তিনি। এছাড়াও পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগের সময় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।