• পুলিশের বন্ধু শিবু সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ১৪ বছর ধরে পথে
    আজকাল | ৩০ মে ২০২৬
  • গোপাল সাহা 

    ১৪ বছরের ক্লান্তহীন পথিক, পেশায় সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীতের শিক্ষক। সাথী হল তাঁর একটি বাইক, যার সামনে এবং পিছনে লেখা রয়েছে সাইনবোর্ডে বড় বড় অক্ষরে ‘যত গতি তত ক্ষতি’। 

    আজ থেকে ১৪ বছর আগে মানুষকে সচেতন করতে কলকাতা শহরের বাসিন্দা শিবু দাস একটি বাইক নিয়ে পথচলা শুরু করেছিলেন। ১৪ বছর পরে এসেও আজও তিনি থেমে যাননি। একই রকম ভাবে মানুষকে সচেতন করতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি আজও অঙ্গীকারবদ্ধ। বিগত ১৪ বছর ধরে কলকাতা শহর থেকে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলায় তাঁর এই বাইকে ঘুরে চলেছেন। শরীরে বার্ধক্য এলেও মনে তাঁর বার্ধক্য আসেনি। রাজ্যবাসীকে পুলিশের ট্রাফিক আইন মেনে চলার বার্তা পৌঁছে দিতে লিখেছেন কবিতা। আর এই কবিতার মাধ্যমে রাজ্যবাসীকে সচেতন করে তোলার মূল মন্ত্র তাঁর বাইকে খোদাই করে লেখা রয়েছে সামনে এবং পিছনের অংশে। আর সেই কবিতা লেখা বাইক নিয়েই ঘুরে বেড়িয়ে চলেছেন কলকাতা-সহ রাজ্যজুড়ে।

    বাইকের সামনেও পিছনে বড় বড় করে কবিতার ছন্দে লিখেছেন, “যত গতি তত ক্ষতি, হেলমেট পড়ো বাইক চড়ো, হেলমেট মাথায় যার, ভগবান সহায় তার”। 

    পেশায় তিনি একজন শিল্পী, তবলা বাদক। একই সঙ্গে তিনি তবলার শিক্ষকও। বহু ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর কাছে বাদ্যযন্ত্র শিখতে আসেন। যখনই তিনি কাজের প্রয়োজনে কোনও অনুষ্ঠানে যন্ত্রাণুসংগীত পরিবেশন করতে কিংবা শিক্ষকতা করতে বাড়ি থেকে বের হন, তখনই সঙ্গী হয় তাঁর এই বাহন। আর এই বাইকেই সাইনবোর্ডের মাধ্যমে কবিতার ছন্দে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য রাজ্যবাসীকে সচেতন করতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। 

    কলকাতা বা জেলায় জেলায় পুলিশ দিবারাত্র কাজ করে চলেছেন মানুষের জীবন সুরক্ষিত রাখতে। জেলা থেকে শহরে নগরবাসী শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে ট্রাফিক আইন যাতে মেনে চলেন, পুলিশের পাশাপাশি সেই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। কারণ, পুলিশের কাজ শৃঙ্খলাবদ্ধ ভাবে যেন সাধারণ মানুষ ট্রাফিক আইন মেনে চলেন। কোন ভাবেই যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে। তারই দায়িত্ব পালন করে চলেছে পুলিশ। রোদ-জল-ঝড়-বৃষ্টিতে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে। আর সেই সঙ্গে মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন শিবু।

    শিল্পী বলেন, “যত গতি, তত ক্ষতি। তাই গাড়ি দ্রুত না চালিয়ে, হাতে সময় নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত। মেনে চলা উচিত প্রতিটি ট্রাফিক সিগন্যাল। একই সাথে রাস্তায় বাইক চালানোর সময় অবশ্যই জরুরি মাথায় হেলমেট পরা। কারণ, সুস্থ জীবন পেতে গেলে পুলিশের ট্রাফিক আইন মেনে চলা অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, আর সুস্থ জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরুন। কারণ প্রত্যেকের পরিবার অপেক্ষা করছে সুস্থভাবে বাড়ি ফেরার আশা নিয়ে। তাই আপনি সুস্থভাবে ফেরা মানে আপনার পরিবার সুস্থ থাকা।”
  • Link to this news (আজকাল)