শুক্রবার দুপুরে হঠাৎই কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতা ও আশপাশের এলাকা। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে শুরু করে, যার দাপটে কার্যত তছনছ হয়ে যায় শহরজীবন। কোথাও গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, আবার কোথাও বৃষ্টির জলে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রাস্তা।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে গণপরিবহণ ব্যবস্থা। মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শিয়ালদহ-বারাসত শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে শিয়ালদহ-ক্যানিং শাখাতেও রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়। যাত্রীরা বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েন।
কলকাতা মেট্রোতেও এর প্রভাব পড়ে। শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের টিনের শেডের একাংশ ঝড়ে উড়ে যায়। কবি সুভাষ ও শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের মাঝে গাছ পড়ে যাওয়ায় কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দ্রুত গাছ সরানোর কাজ শুরু হলে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।
শহরের একাধিক জায়গায় গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সল্টলেক, গল্ফগ্রিনসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সল্টলেকের ইন্দ্রা ভবনের কাছে একটি গাছ একটি গাড়ির উপর পড়ে, যদিও সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে, আম কুড়োতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট মৃত্যু হয় ৪০ বছরের এক পৌঢ়ের। মৃতের গিরির দেহ।
এদিকে কলকাতা বিমানবন্দরেও প্রভাব পড়ে ঝড়ের। রানওয়ে জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন দ্রুত কাজ শুরু করে।
আবহাওয়া দফতরের সতর্কতা অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকেই কলকাতা, হাওড়া ও হুগলিতে প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। কালবৈশাখীর দাপটে অল্প সময়ের মধ্যেই জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় মানুষকে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।