ঝড়ে হুড়মুড় করে ভেঙে গেল রামপ্রসাদের ভিটের প্রাচীন গাছ, চোখের সামনে মনখারাপ করা ছবি
News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
ঝড়ে ভেঙে পড়ল রামপ্রসাদের ভিটের প্রাচীন গাছ, মন খারাপ হালিশহরবাসীদের। বেশ কয়েকদিনের টানা দাবদাহ ও অস্বস্তিকর গরমের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে নামল স্বস্তির বৃষ্টি। তবে সেই বৃষ্টির সঙ্গেই ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়ায় ঘটল বিপত্তি। হালিশহর থানার বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের দাপটে একাধিক গাছ ভেঙে পড়ে। তার মধ্যেই বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্যামা সঙ্গীতের স্রষ্টা রামপ্রসাদের ভিটে চত্বরে থাকা বহু পুরনো একটি বিশাল গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা।
স্থানীয়দের দাবি, গাছটি শুধু একটি বৃক্ষ ছিল না, এলাকার মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল দীর্ঘদিন ধরে। ঝড়ের তীব্রতায় আচমকাই গাছটি ভেঙে পড়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। প্রশাসন সূত্রে খবর, দ্রুত ভেঙে পড়া গাছটি সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু করা হবে। হালিশহরের গঙ্গাতীরবর্তী রামপ্রসাদ ভিটে আজও বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
সাধক কবি রামপ্রসাদ সেনের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থান ঘিরে রয়েছে বহু কিংবদন্তি ও ভক্তির আবহ। বাংলার শ্যামাসঙ্গীতকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এই সাধক কবি নিজের হাতে মা কালীর মূর্তি গড়ে এখানে সাধনা ও পুজো করতেন বলে লোকমুখে প্রচলিত। তার কণ্ঠে সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য শ্যামাসঙ্গীত আজও বাঙালির কালীপুজোর আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষজন এখানে আসেন মনের ইচ্ছা জানাতে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, মন্দির চত্বরে থাকা ভেঙে পড়া প্রাচীন গাছটিকেও ঘিরে ছিল মানুষের আলাদা বিশ্বাস। অনেকে সেই গাছে ধাগা বেঁধে নিজের মনের ইচ্ছা মা কে জানাতেন। তাই ঝড়ে গাছটি ভেঙে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই মন খারাপ এলাকাবাসীর। বহু মানুষের মতে, যেন এলাকার একটি ইতিহাসই চোখের সামনে হারিয়ে গেল। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও আপাতত স্বস্তির খবর, বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবে ঐতিহ্যবাহী এই স্থানের প্রাচীন গাছ হারানোর বেদনা এখনও স্পষ্ট হালিশহরের মানুষের মুখে।