• পাখি রক্ষায় পরিবেশবান্ধব মডেল, 'স্মার্ট বাসা' দেখতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
    News18 বাংলা | ৩০ মে ২০২৬
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পুরুলিয়া বন বিভাগ। গত শীতের মরশুমেই জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে লাগানো হয়েছে বিশেষ পরিবেশবান্ধব কৃত্রিম পাখির বাসা। বনদফতরের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে প্রকৃতি প্রেমী ও পর্যটকদের। একটা সময় বছরের বিভিন্ন মরশুমে জঙ্গলমহলের বনাঞ্চল, জলাশয় ও পাহাড়ি এলাকায় দেখা মিলত নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির।

    কিন্তু ক্রমবর্ধমান আলোর ঝলকানি, শব্দ দূষণ, বনাঞ্চল সংকোচন ও মানুষের বাড়তি কোলাহলের কারণে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে তাদের আনাগোনা। হারিয়ে যাচ্ছে ভোরের পাখির কিচিরমিচির শব্দও। এই পরিস্থিতিতে পাখিদের জন্য নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই উদ্যোগী হয়েছিল বন বিভাগ। একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় বনদফতর বিশেষ ধরনের ক্যামোফ্লেজ নকশার বাসা তৈরি করেছিল। এই বাসাগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তা গাছের পরিবেশের সঙ্গে সহজেই মিশে যায় এবং পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

    বনাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই বাসা বসানো হয়। আর তাতেই মিলেছে বিরাট সাফল্য। এই বাসাগুলিতে আশ্রয় নিচ্ছে পাখিরা। এ বিষয়ে পুরুলিয়া বন বিভাগের ডিএফও অঞ্জন গুহ জানান, বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সামার ক্যাম্প, নেচার ক্যাম্প ও উইন্টার ক্যাম্পে যে সমস্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা আসে, তাদের কাছে প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

    এই লক্ষে তারা অনেকটাই সফল। এটা তাদের কাছে খুবই ভাল লাগার। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে জঙ্গলমহল ও পুরুলিয়ার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বছরের বিভিন্ন মরশুমে অযোধ্যা পাহাড়, বাঘমুন্ডি ও সংলগ্ন এলাকায় ভিড় জমান বহু পর্যটক। কেউ আসেন রক ক্লাইম্বিং করতে, কেউ বা নেচার ক্যাম্প ও জঙ্গল এক্সপ্লোরেশনের টানে। এই কৃত্রিম পাখির বাসা পর্যটকদের কাছেও নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে ধীরে, ধীরে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)