• ভরদুপুরে মাঝরাস্তায় তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, ‘দুর্নীতির ফল’, কটাক্ষ বিজেপির
    প্রতিদিন | ৩০ মে ২০২৬
  • প্রকাশ্য দিবালোকে তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি! গুলিবিদ্ধ ওই তৃণমূল নেতার নাম আকুল সেনাপতি (৪৭)। ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি। দিনের বেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আকুল গোপীবল্লভপুর এক ব্লক তৃণমূল কমিটির সদস্য। এইভাবে তাঁকে গুলি করার ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তথ্য সামনে আসছে। তৃণমূলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্যই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনা ‘দুর্নীতির ফল’ বলে পালটা দাবি বিজেপির।

    আহত ওই তৃণমূল নেতার বাড়ি আমরদা অঞ্চলের মদনশোল গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরের কিছু পরে আকুলবাবু তাঁর আশা কর্মী স্ত্রীকে গোপীবল্লপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে বাইকে করে আনতে যাচ্ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সেই সময় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত একটি বৈঠকে ছিলেন। বাইকে করে বর্গিডাঙা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের দিকে যাওয়ার সময় ওই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে দু’রাউন্ড গুলি চলে। দিনের বেলায় জনবহুল একটি এলাকায় এভাবে গুলি চালার ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় মানুষজন। একেবারে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। সেই সুযোগে রাস্তার পাশে থাকা একটি জমি দিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা।

    স্থানীয় মানুষজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা তৃণমূল নেতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। জানা যাচ্ছে, আকুলবাবুর বুকের ডান দিকের বগলের কাছে গুলি লাগে। বর্তমানে তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার বর্গীডাঙাতে হাসপাতাল রোড এলাকায় স্ত্রী আশাকর্মী সাবিত্রী খামরি সেনাপতিকে আনতে গোপীবল্লভপুর হাসপাতালে যাচ্ছিলেন আকুল সেনাপতি। অভিযোগ, সেই সময় আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুই দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি চালিয়েই দ্রুত এলাকা থেকে চম্পট দেয় আততায়ীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে আকুল সেনাপতিকে গোপীবল্লভপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

    স্থানীয়দের দাবি, আকুল সেনাপতি স্ত্রীকে নিতে হাসপাতালে আসবেন সেই খবর আগে থেকেই জানত দুষ্কৃতীরা। সেই কারণেই হাসপাতালের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল আততায়ীরা বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পুরনো শত্রুতার জেরেই এই গুলি কাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    এই বিষয়ে গোপীবল্লভপুর এক ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হেমন্ত ঘোষ বলেন, ”আকুল সেনাপতি আমাদের ব্লক কমিটির সক্রিয় সদস্য। নির্বাচনেও সে এলাকায় প্রচারের কাজ সামনে থেকে করেছেন৷ আমাদের মনে হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে আমরা চাই পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে এনে দোষীদের গ্রেফতার করুক।” অন্যদিকে জেলা বিজেপির সহ সভাপতি দেবাশিষ কুণ্ডু বলেন ” এটা তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব।এগুলো সবই নিজেদের দুর্নীতির ফল। এর সাথে বিজেপির সম্পর্ক নেই পুলিশ তদন্ত করছে। বিজেপি হিংসা পশ্রয় দেয় না।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)