প্রথমে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ ২৭ লক্ষ টাকা, এয়ার রাইফেলের ৬৬৬ রাউন্ড গুলি এবং ৫২ বোতল বিদেশি মদ। এবার পুলিশি জেরার সূত্র ধরে মাটি খুঁড়তেই মিলল অস্ত্রভাণ্ডার। ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ মছলন্দপুরের তৃণমূল নেতা অজিত সাহা ও তাঁর ভাই সুজিত সাহাকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার শক্তিনগরের কানাপুকুর এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি দোনালা বন্দুক ও ২৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করল গোবরডাঙা থানার পুলিশ। আগাছাভরা জমিতে লুকনো ছিল ওইসব অস্ত্র। দু’দিন আগেই বাদুড়িয়ায় তৃণমূল নেতার পাটের জমি থেকে মিলেছিল কোটি কোটি টাকা। এবার মসলন্দপুর থেকে মিলল অস্ত্র। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এবার জমিতে অস্ত্র চাষ?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সুজিত সাহার কয়েক বিঘা জমিতে পৌঁছয় তদন্তকারী দল। জমির একটি অংশে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হতেই মাটির নিচে পোঁতা কালো প্লাস্টিকের একটি প্যাকেটের সন্ধান মেলে। সেটি খুলতেই বেরিয়ে আসে বন্দুক ও গুলি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, উদ্ধার হওয়া তিনটি দোনালা বন্দুকেই ডবল ট্রিগার রয়েছে। অস্ত্রগুলি কী উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মছলন্দপুরে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত অজিত সাহা। সম্প্রতি ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে ভাই সুজিতকে নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। তদন্তকারীদের দাবি, জেরাতেই জমিতে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার সূত্র মেলে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মাঝেমধ্যেই একটি কালো গাড়ি ওই জমিতে যাতায়াত করত। তবে সেখানে কী হত, তা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইতেন না অনেকেই। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় সুজিত সাহা জমিটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন। এখন তদন্তকারীদের সামনে একাধিক প্রশ্ন— অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল, কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা। উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ অজিত সাহার নামে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। সেই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই গ্রেপ্তারি, নগদ টাকা উদ্ধার এবং এবার মাটি খুঁড়ে অস্ত্রভান্ডার উদ্ধারে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাবড়ার রাজনৈতিক মহলে।