• ‘মমতার কাছে যাওয়া সম্ভব ছিল না, অভিষেক সময় দিতে পারেননি’, বিস্ফোরক জুঁই বিশ্বাস, মুখ খুললেন মেসি-কাণ্ড নিয়েও
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • রাজ্যে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। ২১৫ থেকে আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৮০-তে। কেন এমন পতন? ৪ মে ফলপ্রকাশের পরে এক মাস কাটতে চলল। তবে এখনও দলীয় নেতৃত্ব হারের কারণ বিশ্লেষণ করেনি বলেই দাবি করলেন দক্ষিণ কলকাতার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার জুঁই বিশ্বাস। শুক্রবার ‘এই সময় লাইভ’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিলেন, ‘আরজি করের ঘটনাই তৃণমূলের হারের অন্যতম কারণ।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়েও অকপটে বললেন মনের কথা। দলের শোচনীয় পরাজয়ের পরে বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছে তাঁর গলাতেও।

    ফলপ্রকাশের পরের দিনের একটা ঘটনা শুনিয়েছেন জুঁই। রাতে তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। জুঁইয়ের কথায়, ‘এক যুগল ছিল। হঠাৎ তরুণীটি বলে উঠলেন, তিনি তো বলেছিলেন, শরীর থাকলে যেমন জ্বর-জারি হয়, ধর্ষণও হয়। কথাটা শুনে আমি ভালো করে মেয়েটাকে দেখলাম।’ এই ধরনের ‘মন্তব্যই’ তৃণমূলের কফিনে একটা করে পেরেক পুঁতে গিয়েছে বলে মনে করেন জুঁই। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের স্টেটমেন্ট দেওয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।’

    এই সূত্রেই আরজি করের প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। জুঁইয়ের কথায়, ‘রাজ্য একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর আরজি করের ঘটনায় তো গোটা রাজ্য উত্তাল হয়ে উঠেছিল।’ সেই সময়ে রাত দখল থেকে শুরু করে বাড়ির মা-ঠাকুমাদের রাস্তায় নেমে আসার মতো ঘটনাকে এককথায় অভূতপূর্ব বলে মনে করেন তিনি। সরাসরি বলে দিলেন, ‘ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূেলর হারের অন্যতম কারণ আরজি কর।’

    আরজি করের ঘটনায় তিনি দলকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি বলেও দাবি করেছেন জুঁই। তার পর থেকেই তাঁকে ন্যাশনাল মিডিয়ায় পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ জুঁইয়ের। তাঁর সাফ কথা, ‘২০১১-য় ক্ষমতায় আসার পরে তৃণমূল বেশ কিছু ভালো কাজ করেছে। কিন্তু ২০১৬-র পর থেকে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। ২০২১-এ কোভিডে সবাই খেটেছে। তার ফসলও ঘরে তুলেছে তৃণমূল। কিন্তু তার পরে দুর্নীতি থেকে শুরু করে আরজি করের মতো ইস্যুতে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি।’

    নিজের অভাব অভিযোগ তিনি মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমকে জানিয়েছিলেন। তিনি বেশ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে জানালেন জুঁই। তবে সরাসরি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছতে পারেননি তিনি। জুঁইয়ের কথায়, ‘তাঁকে মন্ত্রী, আইএএস, আইপিএস-রা সব সময়ে ঘিরে রাখত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না।’ তবে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। জুঁই বলেন, ‘যে হেতু ন্যাশনাল মিডিয়ায় পার্টিকে ডিফেন্ড করি। তাই সমস্যাগুলো নিয়ে বসার জন্য অভিষেককে বলেছিলাম। কিন্তু তাঁর সময় হয়নি।’ তবে দলের বিরুদ্ধে মুখ খুললেও জুঁই যে তৃণমূল ছাড়ছেন না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। ইস্তফা দেবেন না কাউন্সিলার পদ থেকেও। জুঁইয়ের কথায়, ‘মানুষ এই পদে বসিয়েছে। পুরো মেয়াদ শেষ করব।’

    জুঁই প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভ্রাতৃবধূ। তবে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিলেন তিনি। জুঁই বলেছিলেন, ‘২০১৯ সাল থেকেই আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে পৃথক ভাবে থাকছিলাম। চলতি বছরের শুরুতেই ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ গত ডিসেম্বরে মেসি-কাণ্ডের সময় যুবভারতীতে ছিলেন তিনিও। তবে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের আমন্ত্রণেই তিনি গিয়েছিলেন বলে জানালেন জুঁই। তিনি বলেন, ‘ওই ঘটনা কারও হাতেই ছিল না। বাচ্চাদের একটা অনুষ্ঠান ছিল। ভারতের পতাকা তাঁর (মেসি) হাতে তুলে দেবে। তাই ওদের সঙ্গে আমায় যেতেই হতো। গোটা ঘটনায় আমার কোনও ভূমিকা নেই।’

  • Link to this news (এই সময়)