পুলিশ, অ্যাম্বুল্যান্স বা দমকলের আলাদা আলাদা নম্বর নয়। যে কোনও আপৎকালীন অবস্থায় জরুরি পরিষেবা পেতে মনে রাখতে হবে একটি মাত্র ফোন নম্বর- ১১২। ভারতে এমন পরিকাঠামো চালুর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এ বার তাতে ডেডলাইন বেঁধে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেকে মাহেশ্বরী এবং বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকারের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ১১২ হেল্পলাইন নম্বর অর্থাৎ একটিমাত্র Emergency Response System-এর আওতায় আনতে হবে।
ভারতে ট্রমা কেয়ার পরিকাঠামো এবং পথ নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার করা মামলায় এই রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট
গোটা দেশে ইন্টিগ্রেটেড আপৎকালীন পরিষেবার নম্বর এটি। আমেরিকায় ৯১১ যে ভাবে কাজ করে ঠিক সে ভাবেই এর কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এমন পরিকল্পনা নতুন নয়। দমকল, পুলিশ, নারী সুরক্ষা বা অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য আলাদা আলাদা নম্বর মনে রাখা কষ্টসাধ্য। সেই কারণেই একটি হেল্পলাইন নম্বর আনার ভাবনা।
এই সিস্টেম ইতিমধ্যে দেশের কিছু কিছু জায়গায় রয়েছে। কিন্তু গোটা দেশে একইরকম ভাবে এই পরিষেবা পাওয়া যায় না। কোনো কোনও রাজ্যে আগের মতো ১০০ ডায়াল, ১০৮ ডায়ালের নম্বর রয়েছে। বহু বিশেষজ্ঞ এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মনে করেন, এর ফলে সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধারকাজ এবং চিকিৎসা শুরুর জন্য গোটা দেশে একটি নম্বর থাকা সুবিধাজনক বলে মনে করেন অনেকে।
ঠিক এই জায়গাটিই স্পষ্ট করে দেখিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নির্দেশ দেওয়ার সময়ে সংবিধানের Right to Life অর্থাৎ ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলেছেন বিচারপতিরা। ট্রমা কেয়ার ভারতীয় সংবিধানে প্রদত্ত Right to Life-এর অংশ বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
এমার্জেন্সির জন্য একটিই নম্বর চালু। যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দপ্তরে বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া যাবে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই পরিষেবার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। যাঁরা দুর্ঘটনার সময়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবেন, সেই নাগরিকদের যাতে অসুবিধা না হয় তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরে প্রয়োজনীয় নোডাল অফিসার রাখার কথাও বলা হয়েছে।
দেশের অ্যাম্বুল্যান্স কোডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যাতে সব অ্যাম্বু্ল্যান্স রাস্তায় নামে তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে। থাকতে হবে জিপিএস, লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম যা ১১২ নেটওয়ার্কে দেখা যাবে।
দুর্ঘটনার জখম ব্যক্তিদের ক্যাশলেস চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের একটি প্রকল্প রয়েছে, যার নাম PM RAHAT। দুর্ঘটনার পরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়। আপৎকালীন চিকিৎসা শুরুর ক্ষেত্রে যাতে অর্থ কোনও বাধা না হয় তার জন্যই এই প্রকল্প। ১১২ নেটওয়ার্কে কেউ ফোন করে সাহায্য চাইলে, অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যম কাছের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যাবে। নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে, যাতে হাসপাতালে এসব নথির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে দেরি না হয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে দ্রুত এই প্রকল্প কার্যকর করার জন্য।