• দু’মিনিট ৮৮ কিলোমিটার বেগে বইল ঝড়, তাণ্ডবে লন্ডভন্ড কলকাতা
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • এই সময়: আইপিএল–এ বৈভব সূর্যবংশীর তাণ্ডবকে যেন কপি করে তুলে আনল প্রকৃতি। বৃষ্টি ও হাওয়ার ভয়ঙ্কর তাণ্ডবের সাক্ষী রইল কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গ। ২২ গজে বৈভবের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মতোই।

    শুক্রবার দুপুরে শহরের উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেল দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট থেকে ২টো ৪৭ মিনিট পর্যন্ত, তার গতিবেগ পৌঁছল ঘণ্টায় ৮৮ কিমি–তে। দমদমে দুপুর ২টো ২৯ থেকে ২টো ৩০ পর্যন্ত এই এক মিনিটে ঝড়ের গতি উঠল ঘণ্টায় ৭৪ কিমি–তে। ওই সময়ে রেকর্ডেড হয়েছে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি। এ ছাড়াও প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বয়ে গিয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। সেই হাওয়া এবং ন’কিলোমিটার পুরু কিউমুলোনিম্বাস মেঘের স্তর কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গকে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তছনছ করে দেয় এ দিন। রাস্তায় জল জমা থেকে শুরু করে গাছ উপড়ে পড়া, ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন থেকে শুরু করে মেট্রোরেলের পরিষেবা থমকে যাওয়া, ফ্লাইট মুভমেন্ট এক ঘণ্টার বেশি বন্ধ থাকা — সব কিছুই ঘটল এ দিন, দুপুরের ওই ঝড়ে। কলকাতার আউট্রাম ঘাটের কাছে ওই ঝড়ের সময়ে গাছের তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে এক যুবকের দেহ।

    বাতাসের গতি হতে হবে ঘণ্টায় অন্তত ৪৫ কিমি। সেই গতি স্থায়ী হতে হবে অন্তত ৬০ সেকেন্ড। আবহাওয়াবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই দু’টিই হলো বর্ষার আগের ঝড়কে ‘কালবৈশাখী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান শর্ত। শুক্রবারের আগে এই মরশুমে কলকাতায় এমন ঘটনা ঘটেছিল পাঁচ বার। তবে কোনও বারই বাতাসের গতি এত বেশি ছিল না। আলিপুর হাওয়া অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ মার্চ অর্থাৎ মরশুমের প্রথম কালবৈশাখীতে শহরে ঘণ্টায় ৭২ কিমি গতিতে ঝড় হয়েছিল। তার পরে যতবারই এমন ঘটনা ঘটেছে, বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘোরাফেরা করেছে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬৩ কিমি–র মধ্যে। সেই সব রেকর্ড খড়কুটোর মতোই উড়ে গেল শুক্রবারের ঝড়ে। ঠিক ওই বৈভবের ব্যাটিংয়ের মতোই।

    আবহবিদরা জানিয়েছেন, মে–র মাঝামাঝি থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছিল। দিনের তাপমাত্রার পাশাপাশি বাড়ছিল রাতের তাপমাত্রাও। উপর আকাশে হালকা মেঘের আস্তরণ জমে থাকায় তাপের বিকিরণও যথাযথ হতে পারছিল না। একই সঙ্গে বাংলার কাছাকাছি বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছিল পর পর কয়েকটি ঘূর্ণাবর্ত। সব মিলিয়ে সমুদ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে কেটেছিল ১২ দিন। ওই সময়ে দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির ভয়াবহ রূপ দেখেছেন। আবহবিদরা জানাচ্ছেন, শুক্রবারের তাণ্ডবের ভিত তৈরি হয়েছিল ওই ১২ দিনেই। এর পরে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত। সেই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে ঘন মেঘের স্তম্ভ তৈরি শুরু হয়।

    বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি শুরু হয়। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার — এই দু’দিন কলকাতা তেমন ভাবে বৃষ্টি না পেলেও সংলগ্ন সল্টলেক এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন অঞ্চল বৃষ্টি পেয়েছিল। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার আকাশে মেঘ তৈরি হতে শুরু করেছিল। এ দিন দুপুর একটার পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলোয় প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। তার পরেই কলকাতার আকাশে অতি দ্রুত তৈরি হয় প্রায় ন’কিমি পুরু মেঘের স্তম্ভ।

    আলিপুর হাওয়া অফিস কলকাতায় তীব্র ঝড়বৃষ্টির ‘নাউকাস্ট’ অর্থাৎ তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ২টো ১৭ নাগাদ মধ্য কলকাতায় বৃষ্টি নামে। ততক্ষণে শহরে নেমে এসেছে অকাল আঁধার। শুরু থেকেই বৃষ্টির তীব্রতা খুব বেশি ছিল। একই সঙ্গে ধেয়ে আসে ঝোড়ো হাওয়া। পরের ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে গোটা শহর বিধ্বস্ত হয়ে যায় ওই ঝড়বৃষ্টির যুগলবন্দিতে। সন্ধেয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে শহরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪০.৫ মিমি। যদিও প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির পরেও শহরের তাপমাত্রা তেমন ভাবে কমেনি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল

    আলিপুর হাওয়া অফিস কলকাতায় তীব্র ঝড়বৃষ্টির ‘নাউকাস্ট’ অর্থাৎ তাৎক্ষণিক পূর্বাভাস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ২টো ১৭ নাগাদ মধ্য কলকাতায় বৃষ্টি নামে। ততক্ষণে শহরে নেমে এসেছে অকাল আঁধার। শুরু থেকেই বৃষ্টির তীব্রতা খুব বেশি ছিল। একই সঙ্গে ধেয়ে আসে ঝোড়ো হাওয়া। পরের ৪৫ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে গোটা শহর বিধ্বস্ত হয়ে যায় ওই ঝড়বৃষ্টির যুগলবন্দিতে। সন্ধেয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে শহরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪০.৫ মিমি। যদিও প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির পরেও শহরের তাপমাত্রা তেমন ভাবে কমেনি। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল।

  • Link to this news (এই সময়)