• পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে তদন্তে সিবিআই, সুপ্রিমে মামলা প্রত্যাহার করছে রাজ্য সরকার
    এই সময় | ৩০ মে ২০২৬
  • এই সময়: তৃণমূল জমানায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ২০১৬–এর নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীর চাকরি খারিজ করেছিল আদালত। প্রায় সেই সময়েই পাহাড়ে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) বিরুদ্ধে শ’চারেক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির বিষয় সামনে আসে। ওই মামলাতেও কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তদানীন্তন তৃণমূল সরকার ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে যায় সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালত সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ দেয়। তারপর থেকে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে ছিল। রাজ্যের নতুন সরকার সুপ্রিম কোর্টে সেই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল।

    শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পাহাড়ের জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে এ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেন। এর ফলে তৃণমূল জমানার এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত করবে সিবিআই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জিটিএ নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষক নিয়োগ স্ক্যাম। অবৈধ ভাবে জিটিএ শিক্ষক নিয়োগ করেছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এখন রাজ্য সরকার চায়, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা থেকে সরে এসে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মতো সিবিআই তদন্ত করাতে এবং আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে।’

    বৈঠকে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত, নবনির্বাচিত তিন বিধায়ক ভরত ছেত্রী, সোনম লামা ও নমন রাই ছাড়াও এনডিএ জোটের শরিক গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরিও উপস্থিত ছিলেন। এ দিনের বৈঠকে বিমল গুরুংরাই জিটিএ–র দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। শুধু শিক্ষক নিয়োগ নয়, সার্বিক ভাবে জিটিএ জমানায় দুর্নীতি নিয়েও তদন্তের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এর আগে পাহাড়ে প্রশাসনিক বৈঠকে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ–র আরও একগুচ্ছ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    মুখ্যমন্ত্রী এ দিনের বৈঠকের পরেই পাহাড়ে পানীয় জল, নিকাশি–সহ সামগ্রিক পরিকাঠামো বিকাশে বরাদ্দ ১২০০ কোটি টাকার আম্রুত অর্থাৎ ‘অটল মিশন ফর রিজুভিনেশন অ্যান্ড আরবান ট্রান্সফরমেশন’ প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, পাহাড়ে বিশেষ তদন্তকারী দল পাঠিয়ে গোটা বিষয়টি তদন্ত করিয়ে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরকে।

    জিটিএ-র কাজের খতিয়ান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সমালোচনার সুরে বলেন, ‘গত আর্থিক বছরে রাজ্য সরকার ১৮০ কোটি টাকা দিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত জিটিএ ইউটিলাইজে়শন সার্টিফিকেট দেয়নি। চলতি আর্থিক বছরের জন্য পূর্বতন সরকার বাজেটে ১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেটা পাওয়ার জন্যও বার্ষিক পরিকল্পনা জিটিএ এখনও পেশ করেনি। পুলিশের ক্ষমতা ছাড়া জিটিএ স্বশাসিত সংস্থা হিসেবে সমস্ত দায়িত্ব পেয়েছিল। রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পেলেও তারা এতদিন কোনও কাজ করেনি বলে পাহাড়বাসীরাই অভিযোগ করছেন। এ বার বদলের বাংলায় তাঁরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা চান।’

    পাহাড়ের নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখতে এ দিন বদল ঘটানো হলো তিন পুরসভা— কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকেও। দার্জিলিংয়ে নির্বাচিত পুরবোর্ড থাকলেও পূর্বতন সরকার পাহাড়ের বাকি তিন পুরসভায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। নতুন সরকার এ বার প্রশাসক পদে মহকুমা শাসকদের বসালেন।

    একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১০০টি বাড়ি ভেঙেছিল। আজও নতুন বাড়ি হয়নি। ওই সব বাড়ির বাসিন্দারা কমিউনিটি হলে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় সাংসদ দশটি পরিবারকে বাড়ি করার ব্যবস্থা করেছিলেন। বাকি ৯০টি পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিতে রাজ্য সরকার ৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছে। পাহাড়ে প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় এনডিআরএফ, এসডিআরএফ–সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের এজেন্সিগুলির সঙ্গে আলোচনা করে ১০ দিনের মধ্যে কুইক রেসপন্স টিম তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)