এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর আজ, শনিবার প্রথম কোনও প্রকাশ্য দলীয় কর্মসূচিতে নামছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের যাওয়ার কথা সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটা বিধানসভা এলাকায়। সোনারপুর দক্ষিণে ‘আক্রান্ত’ তৃণমূলকর্মী সঞ্জু কর্মকার এবং বেলেঘাটায় আর এক ‘আক্রান্ত’ কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। অভিষেকের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কৌতূহল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকেই বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীদের উপরে হামলা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের। অথচ সে ভাবে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে যেখা যায়নি জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষস্তরের কোনও নেতা–নেত্রীকে। সপ্তাহ খানেক আগে কালীঘাটে তৃণমূলের বৈঠকে একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাস্তায় নামার জন্য আর্জি জানিয়েছিলেন। যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোড়াফুলের কর্মী–সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন মাঠে নামছেন না, সে প্রশ্নও উঠেছে। এই আবহে দলের জেলাস্তরের নেতাদের সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিতে আজ থেকে অভিষেক নিজেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ব্যাখ্যা।
পথে না নামলেও কালীঘাটে দলীয় বৈঠকগুলিতে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সক্রিয় তিনি। গত এক সপ্তাহে বিজেপির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু পোস্ট করতেও দেখা গিয়েছে অভিষেককে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন তিনি। কিন্তু রাজ্যের নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে যাঁর যেটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই দেওয়া হবে। একজন সাংসদ হিসেবে যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, অভিষেক তা-ই পাবেন। নিরাপত্তায় কোপ পড়ার পরে শনিবারই প্রথম কালীঘাট এলাকার বাইরে পা রাখছেন অভিষেক। ভোটের পরে প্রথম কর্মসূচি থেকে তিনি কী বার্তা দেন, এখন সে দিকেই নজর সবার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আজ কালীঘাটের বাইরে বেরিয়ে শুধু আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোই নয়, বিদ্রোহী এবং বেসুরো জোড়াফুল নেতাদেরও উদ্দেশেও তিনি বার্তা দিতে পারেন।
তবে অভিষেকের এই কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে না বিজেপি। তাদের বক্তব্য, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে তৃণমূলই তৃণমূলকে মারছে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে। ওই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ করছে। দলের মুখপাত্র প্রণয় রায় বলেন, ‘আমরা সরকারে আসার পরে কোনও হিংসায় মদত দিইনি। ২০২১-এর ভোটের পরে যা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এ বার হয়নি। বরং অভিষেকের বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। অভিষেকের এই সফরের জন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় ওঁকেই নিতে হবে।’